কে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ না তামিম?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৩৮ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
কে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ না তামিম?

টেস্ট দলে সাকিব আল হাসানের ডেপুটি ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের ৭২ ঘণ্টা আগে সাকিব আঙুলে ব্যাথা পেয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়ায় সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কাঁধে বর্তে ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের নেতৃত্ব। ভাবা হচ্ছিল টেস্ট সিরিজ শেষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফিরে অধিনায়কত্ব করবেন সাকিব। কিন্তু তাও হচ্ছে না। আগামী ১৫ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলতে পারবেন না নিয়মিত এই অধিনায়ক।

এদিকে সাকিব দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট খেলতে না পারায় দেখা দিয়েছে নতুন বিপত্তি। টেস্ট এবং ওয়ানডে স্কোয়াডে অধিনায়কের সঙ্গে সহ-অধিনায়ক আগে থেকে ঠিক করা থাকলেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কোন সহ-অধিনায়ক ছিল না। তাই শ্রীলঙ্কার সাথে দুই ম্যাচে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাকিব খেলতে না পারায় ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মনোনয়নের প্রশ্ন এসেছে।

শুধু মনোনয়নের প্রশ্নই আসেনি। লঙ্কানদের সাথে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর ৭২ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত কোন অধিনায়কই নেই বাংলাদেশ দলের। যেহেতু সহ-অধিনায়ক নেই, তাই একজনকে অধিনায়ক হিসেবে মনোনয়ন দিতে হচ্ছে। আজ (সোমবার) বিকেলের মধ্যেই সে মনোনয়ন হবে চূড়ান্ত।

সোমবার বিকেলেই টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়ক মনোনয়ন করা হবে। অধিনায়ক মনোনয়নের কাজটি যেহেতু বোর্ডের, তাই বোর্ড কর্তারা বসেই ঠিক করবেন কাকে অধিনায়ক করা যায়। আজ দুপুরে অধিনায়ক মনোনয়নের অনানুষ্ঠানিক সভা, সকালে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান এবং বোর্ড পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন তা নিশ্চিত করেছেন। দুজনই জানিয়েছেন আজ দুপুরে বসে আমরা অধিনায়ক চূড়ান্ত করে ফেলবো।

এদিকে সব টুর্নামেন্টে অধিনায়ক মনোনয়ন দেয় বোর্ড। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান আইসিসির নির্বাহী সভায় অংশ নিতে দুবাই থাকায় অধিনায়ক মনোনয়ন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তিনি দেশে থাকলে হয়তো টেস্ট সিরিজ শেষ হবার রাতে না হয় পরদিনই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক চূড়ান্ত হয়ে যেত।

ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খান জানালেন, সোমবার বিকেলে দেশে ফিরছেন নাজমুল হাসান। তার মানে তিনি ফেরার পর বোর্ডের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বসে অধিনায়ক চূড়ান্ত করবেন।

এখন প্রশ্ন হলো কে হবেন অধিনায়ক? মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল নাকি মুশফিকুর রহীম? যেহেতু মাশরাফি আর সাকিব নেই, তাই অধিনায়ক নির্বাচনে ‘পঞ্চ পাণ্ডবের’ বাকি তিনজনের নামই চলে আসে আর সবার আগে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই তিনজনের মধ্য থেকেই একজনকে বেছে নেয়া হবে।

তবে অধিনায়ক হবার দৌড়ে মুশফিক অনেকটাই পিছিয়ে। জানা গেছে তামিম ও মাহমুদউল্লাহই সম্ভাব্য অধিনায়কের তালিকায়। তাদের যে কোন একজনের কাঁধেই দল পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণের সম্ভাবনা বেশি।

এদিকে টেস্টের পারফরমেন্স ও ফল বেশি খারাপ হয়ে যাওয়ায় মাহমুদউল্লাহর পাল্লা কিছুটা কমেছে। না হয় মাহমুদউল্লাহর কাঁধেই দল পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে দেয়া হত। উল্কার বেগে শুরু করেও তিন জাতি আসরের শেষ ভাল হয়নি। টেস্ট সিরিজও হাতছাড়া। তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। সে কারণেই অধিনায়ক মনোনয়ন নিয়ে বোর্ড কর্তারাও আছেন চিন্তিত ও দ্বিধায়।

অধিনায়ক মনোনয়নে বোর্ডের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের কেউ কোন আগাম মন্তব্য না করলেও ভেতরের খবর, মাহমুদউল্লাহর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক কথা বার্তা চাওর হয়ে গেছে। প্রথমত একটু বেশি কোমল মানসিকতার। নার্ভ তত শক্ত নয়। বিপর্যয় ও কঠিন সময়ে যতটা দৃঢ় ও শক্ত মানসিকতার দরকার, তাতে কমতি আছে। শক্ত হাতে হাল ধরার জন্য যে ইস্পাত কঠিন মনোবল ও সাহসের প্রয়োজন, তাতে ঘাটতি আছে। দল পরিচালনা, সহযোগিদের সাহস জোগানো ও চাঙ্গা রাখার কাজটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র শেষ হওয়া অন্তত প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে দেখাতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। এমনকি ব্যাট ও বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার কাজটিও পারেননি।

তাই বিকল্প হিসেবে তামিম ইকবালের কথা ভাবা হচ্ছে জোরেশোরে। মানসিক দিক থেকে অনেক শক্ত মনের তামিম। টি-টোয়েন্টি ফরমেটের তার মানসিকতা ও ব্যাটিং স্টাইল- দুইই মানানসই। ক্রিকেটের ছোট ফরমেটে তামিম ইকবালও ভালো বিকল্প। তামিমের কাঁধে দায়িত্ব বর্তালে অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

আকরাম খান ও খালেদ মাহমুদ মাহমুদ সুজন কেউ জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেননি। জাতীয় দল পরিচর্যা, পরিচালনা ও আনুসাঙ্গিক সুযোগ, সুবিধা নিশ্চিত করা যে স্ট্যান্ডিং কমিটির দায় দায়িত্ব সেই ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খানের জন্য এ বিষয়ে কথা বলা এমনিতেও স্পর্শকাতর। তামিম ইতবাল তার আপন ভাইপো। বড় ভাই ইকবাল খানের ছোট ছেলে। খুব স্বাভাবিকভাবেই আকরাম খান অধিনায়ক মনোনয়নে খুব বেশি সরব হতে পারবেন না। জাগো নিউজকে তাও জানিয়েছেন। ‘আমার জন্য অধিনায়ক মনোনয়নে অগ্রণী ভূমিকা নেয়া একটু কঠিন। নৈতিক দিক থেকে দায়বদ্ধতা আছে। তামিম আমার ভাতিজা, আমি তো আর তার কথা যেচে বলতে পারি না। পারবোও না। সবাই বসে ঠিক করবো। পাপন ভাই ( বিসিবি বিগ বস ) চলে আসবেন বিকেলের মধ্যে। তিনি আসার পরই হয়তো অধিনায়ক মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে।’

এআরবি/এমআর/জেআইএম