চ্যাটজিপিটি জেনে যাচ্ছে আপনার নাড়ি-নক্ষত্র, সাবধান হবেন যেভাবে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এআই ও মানুষের মধ্যে সম্পর্ক যত নিবিড় হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি ঢুকে পড়ছে ব্যক্তিগত জীবনের গভীরে। এখন আর শুধু অফিসের কাজ বা তথ্য জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। প্রেম, সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রেই অনেকেই নির্ভর করছেন এআইয়ের উপর। কিন্তু এই নির্ভরতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি।

সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে, যা শুনলে মনে হবে কোনো কল্পকাহিনি। ২৭ বছরের এক তরুণী জানতে পারেননি যে তার চল্লিশের শেষ কোঠায় থাকা প্রেমিকটি আসলে বিবাহিত। আশ্চর্যের বিষয়, এই গোপন সত্য প্রকাশ্যে এনেছে মানুষ নয় চ্যাটজিপিটি।

এই ঘটনার কথা জানান ডেটিং কোচ ব্লেন অ্যান্ডারসন। তিনি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে লেখেন, ওই তরুণীর প্রেমিক ছিলেন প্রযুক্তিপ্রেমী এবং চ্যাটজিপিটি নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী। বলা যায়, তিনি চ্যাটজিপিটির প্রতি প্রায় আসক্তই ছিলেন।

ডেটে গিয়েও প্রেমিক সারাক্ষণ চ্যাটজিপিটিতে প্রশ্ন করতেন। পান করতে করতে ককটেলের ইতিহাস জানতে চাইতেন, আর যেসব উত্তর পেতেন, সেগুলো জোরে জোরে পড়ে শোনাতেন প্রেমিকাকে। এতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিরক্ত হয়ে ওঠেন তরুণী।

রাতের শেষ দিকে প্রেমিকা অনুরোধ করেন, এবার যেন ফোন সরিয়ে তার দিকে মন দেওয়া হয়। উত্তরে প্রেমিক হালকা রসিকতার সুরে বলেন, চ্যাটজিপিটি আর আমি ভালো বন্ধু। তুমি চাইলে আমার সম্পর্কে যা খুশি ওকে জিজ্ঞাসা করতে পারো।এই কথার সুযোগ নিয়ে প্রেমিকা প্রেমিকের ফোন হাতে নিয়ে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেন-আমাকে এমন কিছু বলো, যা তুমি অন্য কারো সঙ্গে শেয়ার করো না। আর আমার কোন বিষয়টা তোমার সবচেয়ে ভালো লাগে?

চ্যাটজিপিটি উত্তরে বলে-আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যে আপনি আপনার স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল একজন স্বামী এবং আপনার সন্তানদের কাছে একজন স্নেহশীল বাবা। এই উত্তরেই মুহূর্তের মধ্যে প্রকাশ্যে আসে প্রেমিকের আসল পরিচয়।

আপনার মনে হতে পারে চ্যাটজিপিটি জানলো কীভাবে এত ব্যক্তিগত তথ্য? বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যাটজিপিটি নিজে থেকে কিছু জানে না। ব্যবহারকারী দিনের পর দিন যে ব্যক্তিগত তথ্য, অনুভূতি ও জীবনের খুঁটিনাটি শেয়ার করেন, সেগুলোর ভিত্তিতেই এআই যুক্তিসংগত উত্তর তৈরি করে। এই ক্ষেত্রেও সম্ভবত প্রেমিক নিজেই অজান্তে নিজের পারিবারিক জীবনের তথ্য শেয়ার করেছিলেন।

এআই ব্যবহারে কোথায় বিপদ লুকিয়ে? এআই মানুষের মতো চিন্তা না করলেও, দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন উত্তর দিতে পারে, যা অপ্রস্তুত অবস্থায় সত্য প্রকাশ করে দেয়। প্রেম, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত জীবন সংক্রান্ত তথ্য দিলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

নিরাপদে থাকতে চ্যাটজিপিটিকে যে তথ্য জানাবেন না
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চ্যাটজিপিটিকে কখনোই নিজের বা অন্যের বৈবাহিক অবস্থা, সম্পর্কের গোপন তথ্য, ব্যক্তিগত পরিচয়, ঠিকানা, ফোন নম্বর কিংবা এমন কোনও তথ্য দেওয়া উচিত নয়, যা প্রকাশ পেলে সামাজিক বা আইনি সমস্যা তৈরি করতে পারে।

নিরাপদে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করবেন যেভাবে
চ্যাটজিপিটিকে সহায়ক টুল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে নয়। কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে মনে রাখতে হবে আপনি যা লিখছেন, ভবিষ্যতে তার ভিত্তিতেই উত্তর আসবে। তাই সম্পর্ক বা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মানুষের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ।

আরও পড়ুন
এআইকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক
চ্যাটজিপিটিকে যেসব প্রশ্ন ভুলেও করবেন না

সূত্র: দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।