ভুতুড়ে এসব স্টেশনে গেলেই মিলবে ভূতের দেখা!

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৫৯ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ট্রেন ভ্রমণ বরাবরই আনন্দদায়ক। ঘুরতে গেলে ট্রেনে যাতায়ত করার মজাই আলাদা। তবে এমন কিছু রেলওয়ে স্টেশন আছে; যেগুলোর আশেপাশে গেলেই বিপদ। রাত হলেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে স্টেশনগুলো।

ভারতের বেশ কিছু রেলওয়ে স্টেশনের বয়স ২০০ বছরেরও বেশি। এসবের মধ্যে বেশ কয়েকটিই ‘ভুতুড়ে স্টেশন’ হিসেবে পরিচিত। তবে কেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন

কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনকে ‘আত্মহত্যার স্বর্গ’বলে বিবেচনা করা হয়। রাত হলেই সেখানে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়তই। যারা মৃত্যুবরণ করেন তারা কি সত্যিই আত্মহত্যা করেন, না-কি অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনা ঘটে তাদের সঙ্গে, তা কারও জানা নেই।

jagonews24

কলকাতার অন্য মেট্রো স্টেশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। আবার অনেক যাত্রীই সেখানে শেষ ট্রেন ধরতে গিয়ে ভৌতিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। আচমকা ছায়ামূর্তি সরে যাওয়া এবং ব্যাখ্যাহীন চিত্কার শুনেছেন অনেকেই।

বেগুনকোদর ট্রেন স্টেশন

বেগুনকোদরবাসীদের মতে, ১৯৬৭ সালে একজন রেলকর্মী অভিযোগ করেন তিনি না-কি স্টেশনে একজন নারীর আত্মাকে দেখেছেন। গুজব রটে যায়, সেই নারী রেল দুর্ঘটনার কারণে মারা গিয়েছিলেন। তবে তখন বিষয়টি কেউ আমলে নেননি।

এরপর প্রকৃত ঘটনাটি ঘটে যখন স্টেশন মাস্টার ও তার পরিবারের মৃতদেহ তাদের কোয়ার্টারে পাওয়া যায়। নানা উপকথা মানুষের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে। পরবর্তীকালে স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ানো বন্ধ হয়ে যায়। স্টেশনটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

jagonews24

তবে আশেপাশের মানুষ স্টেশনে ভৌতিক কর্মকাণ্ডের স্বাক্ষী হয়েছেন অনেকবার। ৪২ বছর পর, ২০০৯ সালে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের হল্ট স্টেশন হিসেবে স্টেশনটি শেষ পর্যন্ত চালু করেন। প্রতিদিন এ স্টেশনে ১০টি যাত্রীবাহী ট্রেন থামলেও যাত্রীরা সূর্যাস্তের পর স্টেশনটিতে আসেন না।

বারোগ স্টেশন, সিমলা

ভারতের হিমাচল প্রদেশের অন্যতম বিখ্যাত রেলওয়ে হলো কালকা-সিমলা রেলওয়ে। এই হেরিটেজ রেলওয়েরই একটি অংশ বারোগ টানেল। কালকা-সিমলার সবচেয়ে লম্বা এ টানেলের দৈর্ঘ প্রায় ১.১৪ কিলোমিটার।

নানা ইতিহাস ও ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এ বারোগ স্টেশন। সবচেয়ে বেশি জড়িত রয়েছেন কর্নেল বারোগ। ব্রিটিশ রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারের নামে এ স্টেশন ও টানেলের নামকরণ করা হয়। টানেল তৈরির মূল তত্ত্বাবধানে ছিলেন কর্নেল বারোগ।

jagonews24

একদিন নিজের পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হন তিনি। তখনো টানেল তৈরির কাজ সমাপ্ত হয়নি। টানেলের কাছে এসেই পকেট থেকে রিভলবার বের করে নিজেকে গুলি করেন। তার কুকুরটা ভয় পেয়ে গ্রামে চলে যায়। হাসপাতালে নিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি। এখনো না-কি বারোগের আত্মা স্টেশন চত্ত্বরে ঘুরে বেড়ায়!

এই টানেলের ভেতর ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার স্পিডে চলে ট্রেন। পার হতে সময় লাগে আড়াই মিনিট। এই সময়ের মধ্যে অনেকেই না-কি মানুষের ছায়া দেখেছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া/জেএমএস/এসইউ/এএসএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]