সুবলং ঝরনায় গিয়ে যা যা দেখবেন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ১১:৪৯ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

পাহাড়ের ঝরনাগুলো এখন তাদের যৌবন ফিরে পেয়েছে। শীতের শুষ্ক মৌসুমে সবার মতো ঝনার পানিও শুকিয়ে গিয়েছিল। বর্ষার মৌসুমে আবারও পূর্ণযৌবনা হয়ে উঠেছে পাহাড়ি ঝরনা। চিরসবুজ হয়ে ওঠা প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাহাড়ের ঝরনাগুলোও এখন উন্মাতাল।

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় অর্ধশতাধিক ঝরনার মধ্যে সুবলঙের বড় ঝরনা খ্যাতনামা। এটি সব পর্যটকেরই মন জয় করেছে। প্রতিবছর বর্ষায় যেন হারানো রূপ খুঁজে পায় এই ঝরনা। এ কারণে হাজারও পর্যটক এ পাহাড় বেয়ে আসা স্নিগ্ধ জলধারা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে ছুটে আসে।

রাঙ্গামাটি শহর থেকে নদীপথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুবলং। রাঙ্গামাটি ভ্রমণে গিয়ে সুবলঙে না গেলে বোঝাই যাবে না সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রাঙ্গামাটি শহর থেকে নৌপথে সুবলং পৌঁছানো যায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যে। সেখানে যেতে হ্রদের ভেতরে পাহাড়ি টিলাসমূহ, সবুজ গাছপালা, পাহাড়ি পল্লীগুলো পেরিয়ে।

jagonews24

মাঝে মাঝে বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দৃষ্টিগোচর হয়। সুবলঙে ছোট-বড় অসংখ্য ঝরনাধারাসহ আরও আছে সুদৃশ্য পাহাড়। হ্রদের ভেতর দিয়ে যেতে মনে হয় যেন দু’পাশে স্বাগত জানানোর জন্য বিশালদেহী কেউ দাঁড়িয়ে আছে।

বেলে পাথরের পাহাড়গুলো যেন কেউ নিপুণ হাতে সাজিয়ে রেখেছে। এখানে প্রকৃতির বিশালতাও চোখে পড়বে। পাহাড়গুলো এতো বড় যে হ্রদ থেকে মনে হয় পাহাড় ও আকাশ একই সীমায় এসে পৌঁছেছে। সুবলঙে যাওয়ার পথে চোখে পড়বে হ্রদের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা হাজারও পরিবারের জীবিকার্জনের বিচিত্র দৃশ্য।

স্থানীয় অধিবাসীরা ছোট ছোট নৌকা করে নিয়ে আসছে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য। আবার দল বেঁধে জেলেরা মাছ শিকারের দৃশ্যও চোখে পড়বে। পাহাড়িরা জুম চাষের দৃশ্যও দেখা যাবে।

এই উপজেলায় ছোট-বড় আরও কিছু ঝরণা আছে। এসব ঝরনা দেখতে যাওয়া যেমন কষ্টকর তেমন দুঃসাধ্যও বটে। বান্দরছড়ি, তুনদুরাছড়ি, পুরিহাট ছড়া, আগারছড়া, জীবনছড়া, উজ্জাছড়ি, মরা উজ্জাছড়ি, ডাইনের উজ্জাছড়ি, গরগরি ছড়ি, মিতিঙ্গাছড়ি, মাইসছড়ি, হাজাছড়া, বরুণাছড়ি, দীঘলছড়ি প্রভৃতি ঝরনায় যাওয়া যায়।

তবে তা বেশ কষ্টসাধ্য। দুর্গম এলাকায় নৌপথে ও এর পর পায়ে হেঁটেই ঝরনাগুলো যাওয়া যায়। বরকল উপজেলাকে ঝরনার উপজেলাও বলা যেতে পারে। কারণ এ উপজেলায় যত ঝরনা আছে আর কোথাও এতো ঝরণা চোখে পড়ে না।

jagonews24

ঢাকা থেকে আসা রাসেল মাহমুদ ও আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এতো সুন্দর ঝরনা। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। রাঙামাটি শহর থেকে নৌপথে সুবলঙে আসার পথে দু’দিকের সৌন্দর্য দারুণ মোহনীয়। রাঙামাটি এসে সুবলং না আসলে সত্যিই আপনি অনেক কিছুই মিস করবেন।

তাই নগর যন্ত্রণার ক্লান্তি দূর করতে পাহাড়ের কোলে আসতে পারেন। স্নাত হতে পারেন ঝরনার বিশুদ্ধ ধারায়। যা আপনার ক্লান্তি ও যন্ত্রণা দূর করে স্বস্তি দেবে। ঝরনাধারায় নিজেকে সঁপে দিয়ে মনের মলিনতা, জীর্ণতা ত্যাগ করে নিজেকে পুনরায় প্রস্তুত করতে পারেন। হ্রদ ও পাহাড়ের বিশালতা দেখে আপনার মনও বিশালতায় ভরে উঠবে।

পাহাড়ি এ ঝরণাসহ আরও ছোট-বড় যে ঝরনাগুলো আছে তার উৎস নষ্ট হওয়ায় এগুলো বিলুপ্তির পথে আছে। তাই এ ঝরণাগুলোর উৎস নষ্ট না করার জন্য সবার সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বাঁচাতে হবে আমাদের এই অনিন্দ্য সুন্দর ঝরনাকে। তা না হলে এ পর্যটন শহর একদিন পর্যটক শূন্য হতে বেশিদিন লাগবে না।

শংকর হোড়/জেএমএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]