মধুমতির চরে পর্যটকের ঢল, যেন মিনি কক্সবাজার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:৩৯ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৬
মধুমতি নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা বিশাল চর, ছবি: জাগো নিউজ

গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা বিশাল চর এখন স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর কল্যাণে অল্প সময়েই জায়গাটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ ভিড় করছেন এখানে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো।

মধুমতি নদীর পূর্বপাড়ে গোপালগঞ্জ এবং পশ্চিমপাড়ে নড়াইল জেলা। নদীর মাঝ বরাবর প্রায় ৩০০ মিটার দৈর্ঘ ও ৪০ মিটার প্রস্থের চরটি জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে কখনো জেগে ওঠে, কখনো পানিতে ডুবে যায়। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চরটির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

গোপালগঞ্জ সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে জালালাবাদ ইউনিয়নের চর মাটলা খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে এ চরের অবস্থান। নদীর স্বচ্ছ জলরাশি, বিস্তৃত বালুচর, খোলা আকাশ আর পাশের সবুজ ক্ষেত মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। দর্শনার্থীরা চরে ঘুরে বেড়ানো, খেলাধুলা ও নদীর জলে গা ভিজিয়ে অন্যরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। যারা দূরের সমুদ্রসৈকতে যেতে পারেন না, তাদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে কম খরচে বিনোদনের আকর্ষণীয় গন্তব্য।

দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ায় স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকানপাট। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করে অনেকে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ট্রলারচালকরাও জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় যাতায়াত সেবা দিয়ে ভালো আয় করছেন। মোটরসাইকেল রাখার জন্য নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। স্থানীয় যুবকেরা স্বেচ্ছাশ্রমে নিরাপত্তা ও সহায়তা দিচ্ছেন। অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

river

দর্শনার্থীরা জানান, তারা ফেসবুকে ভিডিও দেখে এখানে এসেছেন এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আনন্দ পেয়েছেন। নড়াইলের এক সরকারি কর্মকর্তা পরিবারসহ ঘুরতে এসে স্থানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছর ছোট আকারে চরটি দেখা গেলেও এ বছর তা কয়েকগুণ বড় হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম ভিডিও পোস্টের পরই জায়গাটি ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসতে শুরু করে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী মাহমুদ উল্লাহ বলেন, ‘এখানে আসার রাস্তার অবস্থা ভালো। তবে শেষাংশে সামান্য একটু অবস্থা খারাপ। যদিও ওই অংশের কাজের টেন্ডার হয়েছে। দ্রুতই কাজ শেষ হবে।’

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৌশিক আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার মানুষ এটিকে বেশ আনন্দের সাথে নিয়েছেন। আনন্দ উপভোগ করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন। এতে তারা কক্সবাজারের অনুভূতি পাচ্ছেন। তারা নদীর মাঝখানে যাচ্ছেন নৌকায় করে। সেখানে গোসল করছেন। যারা কক্সবাজার যেতে পারেন না; তারা এখানে কক্সবাজারের স্বাদটা উপভোগ করার চেষ্টা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে জায়গাটি ভিজিট করলাম। যেহেতু এটি নদী, এখানে আসা অনেকেই সাঁতার জানেন না। তাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমরা উদ্যোগ নেবো। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জায়গাটিকে সুরক্ষিত করা হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। যেসব ভ্রমণপিপাসু এখানে আসেন; তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট থাকবো।’

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।