ভোলার দৃষ্টিনন্দন নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ
ভোলার অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ। এখানে নামাজ পড়তে ও একনজর দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে নারী-পুরুষ। দৃষ্টিনন্দন মসজিদে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের জন্য আছে নামাজ ও অজুর সুবিধা। এ ছাড়া মসজিদে আছে আধুনিক মানের গ্রন্থাগার ও হেফজখানা। যা ধর্মপ্রাণ মানুষর কাছে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় দেড় একর জমির ওপর ২০১০ সালে শহরের প্রাণকেন্দ্র উকিলপাড়ায় নির্মাণকাজ শুরু হয় মসজিদের। প্রায় ৫২ হাজার শ্রমিকের মাধ্যমে মার্বেল পাথরসহ বিভিন্ন দামি পাথর ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কারুকাজ দিয়ে নির্মিত হয় দুইতলা বিশিষ্ট মসজিদটি। প্রায় ৬ বছর লাগে এর নির্মাণকাজ শেষ করতে। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় মসজিদটি। ১২০ ফুট উচ্চতার দুটি মিনার ও ৬০ ফুট উচ্চতার ৪টি গম্ভুজ আছে মসজিদে। চারপাশে সাজানো ফুলের বাগান সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে আসা মো. হাসান ও মোবারক হোসেন জানান, এ মসজিদের নাম তারা লোকমুখে অনেক শুনেছেন। শহরে অনেকবার এলেও মসজিদের ভেতরে যাওয়া হয়নি। যাওয়া-আসার পথে রাস্তা থেকে একটু দেখেছেন, তাতেই ভালো লেগেছে। এবারই প্রথম শুধু মসজিদটি দেখতে এসেছেন। এখানে নামাজও পড়েছেন। চারদিকে ঘুরে দেখে তাদের মনে হয়েছে, এটি জেলার সুন্দর একটি মসজিদ।

মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মো. বেলাল হোসেন ও মো. মিরাজ জানান, মসজিদে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নামাজ পড়তে আসেন। নামাজ আদায়ের পাশাপাশি মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিনিয়ত ছুটে আসে অনেক মানুষ।
নামাজ পড়তে আসা জান্নাত বেগম ও রেহানা বেগম জানান, মসজিদে তারা মাঝে মধ্যেই নামাজ পড়তে আসেন। এখানে নারীদের জন্য আলাদা সুবিধা আছে। এ জন্য তাদের মতো অনেক নারী এখানে নামাজ পড়তে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবারে বেশি আসেন নারীরা।
মো. নূরউদ্দিন ও মো. রানা জানান, দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদের লাইব্রেরি ও হিফজখানা শিক্ষার্থীসহ সব মানুষের ইসলাম ধর্ম চর্চার একটি অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদের ইমাম মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘মসজিদে একসাথে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। নারীদের আলাদা সুবিধা আছে। নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের কাছে মসজিদটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে নামাজ পড়ে তৃপ্তি পান মুসল্লিরা।’
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সুনাম কিংবা পরিচিতির জন্য মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করিনি। মূলত মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি পেতেই প্রতিষ্ঠা করেছি। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেই মসজিদটি নির্মাণ করেছি। নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটি তৈরি করা হয়।’
এসইউ