সোনালি মাছের শহরে যা দেখবেন

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:২১ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২০

বেনজীর আহমেদ সিদ্দিকী

যদি কখনো হংকংয়ের কওলন শহরের মংককের টুংচুইয়ের রাস্তায় সন্ধ্যায় হাঁটতে বের হন, তাহলে চারপাশের উজ্জ্বল সোনালি আভায় চোখ ও মন জুড়িয়ে যাবে। টুংচুইয়ের ফুটপাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে তাকালে মনে হবে যেন এক সোনার খনির মতো মনোমুগ্ধকর ও জাদুকরী স্বপ্নরাজ্যের মাঝে এসে পড়েছি। আর এ স্বপ্নরাজ্যই হচ্ছে হংকংয়ের বিখ্যাত ‘গোল্ডফিশ স্ট্রিট’, যা দিনে দিনে ছোট-বড় সবার কাছে ভীষণ পছন্দের ঘুরে বেড়ানোর জায়গা হয়ে উঠেছে। প্রায় ৩শ মিটার রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অজস্র দোকান। যার অধিকাংশই গোল্ডফিশ বিক্রি করার। এসব দোকানের অ্যাকুরিয়াম এবং ফুটপাতে পলিব্যাগে ঝুলিয়ে রাখা থাকে হাজার হাজার গোল্ডফিশ।

এ রাস্তা ধরে হাঁটলে আরও দেখা যাবে গোল্ডফিশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্থানীয়দের জীবনযাপন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। দোকানগুলো ভোরের আলো ফুটতে ফুটতেই ৪-৫টার দিকে খুলে যায় এবং দিনভর বেচাকেনা শেষে রাত ১০টায় বন্ধ হয়ে যায়। চায়নার নতুন বর্ষ উপলক্ষে দোকানগুলো কয়েকদিন বন্ধ থাকে। এ ছাড়া প্রতিদিনই খোলা থাকে। মনে রাখতে হবে, গোল্ডফিশের এই রাজ্য ঘুরে দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় সন্ধ্যার পরের মুহূর্ত। কারণ এ সময়ে চারপাশের আলো গোল্ডফিশের সোনালি শরীরে পড়ে এক অন্যরকম ঝলমলে আবহ তৈরি করে।

jagonews24

মাস ট্রানজিট রেল, বাস ও ট্যাক্সি ব্যবহার করে খুব সহজেই এখানে চলে আসা যায়। মাস ট্রানজিট রেল সবচেয়ে সুবিধাজনক। কারণ খরচ তুলনামূলক কম এবং এটি থামে প্রিন্স অ্যাডওয়ার্ড মংকক মাস ট্রানজিট রেলওয়ে স্টেশনে। যেখান থেকে টুংচুই স্ট্রিটে হেঁটেই চলে আসতে পারবেন। তবে রেল বা বাসে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে ট্যাক্সিতেও সরাসরি চলে আসা যায়।

jagonews24

গোল্ডফিশকে চীন, হংকং, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মায়ানমারে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধির প্রতীক ও জীবনের অংশ হিসেবে দেখা হয়। অধিকাংশ বাড়িতে গেলেই অ্যাকুরিয়ামে গোল্ডফিশ দেখা যায়। অনেকেই গোল্ডফিশের ছবি আঁকা তৈজসপত্র ব্যবহার করেন। অনেক দেশেই গোল্ডফিশ আকৃতির ও রঙের মজাদার বিস্কুট বানানো হয়, যা বাচ্চারা ভীষণ পছন্দ করে। এ বিস্কুট তৈরিতে পনির, মাখন, গম ও ভুট্টার ময়দা, মধু ব্যবহার করা হয়। চীন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় গোল্ডফিশ ভাজি ও রান্না করে খাওয়া হয়।

গোল্ডফিশ বেশ সুপরিচিত একটি রঙিন মাছ। রূপের দিক থেকে এর জুড়ি মেলা ভার। বিশ্বের অন্যতম নামিদামি প্রজাতির মাছ এটি। এ মাছ সচরাচর ছোট আকৃতির হয়ে থাকে। গোল্ডফিশ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের মাছ হলেও বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এটি পাওয়া যায়। পৃথিবীতে প্রায় ১২৫ প্রজাতির গোল্ডফিশ আছে। গোল্ডফিশ ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হয়। যুক্তরাজ্যের নর্থ ইয়র্কশায়ারে ১৯৯৯ সালে একটি গোল্ডফিশ ৪৩ বছর বয়সে মারা গিয়েছিল। এটি গোল্ডফিশ বেঁচে থাকার রেকর্ড।

jagonews24

সাধারণত সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ও শখের বশে অনেকেই বাসার অ্যাকুরিয়ামে গোল্ডফিশ পালন করে থাকে। তাই বাসার অ্যাকুরিয়ামে পালন করা অধিকাংশ মাছই দেখা যায় গোল্ডফিশ প্রজাতির। যেমন- কমেট, ওয়াকিন, জাইকিন, সাবানকিন, ওরান্ডা, ব্ল্যাক মোর, ফান্টাইল, রুইকিন, ভেইল টেইল, রানচু ইত্যাদি। আকৃতি অনুসারে গোল্ডফিশ সাধারণত ডিম্বাকৃতি ও লম্বা দৈহিক গঠনের হয়ে থাকে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার দিক থেকে লম্বা দৈহিক কাঠামোর গোল্ডফিশগুলো বেশ শক্তিশালী হয়ে থাকে।

সুইডেনে প্রচলিত আছে, গোল্ডফিশের স্মৃতিশক্তি মাত্র তিন সেকেন্ড। তাই কেউ কোনো কিছু মনে না রাখতে পারলে কখনো কখনো তাকে মজা করে ‘গোল্ডফিশ মেমোরি’ বলে ডাকা হয়। কিন্তু আসলে গোল্ডফিশের স্মৃতিশক্তি এত কম নয়। গোল্ডফিশ কোনো ঘটনা কমপক্ষে তিন মাস পর্যন্ত মনে রাখতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ গোল্ডফিশের স্মরণকাল ১২ দিন পর্যন্ত হতে পারে, যা অন্তত ‘তিন সেকেন্ড’ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

jagonews24

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে আশপাশের মায়াবী সোনালি আলোয় চোখ জুড়িয়ে আনন্দ নিয়ে গোল্ডফিশ কিনে ফেলার অভিজ্ঞতা আসলেই অন্যরকম। আর এ অসাধারণ আনন্দ পেতে হলে হংকংয়ে সোনালি মাছের শহর মংককের টুংচুইয়ে যেতে হবে।

লেখক: ফার্মাসিস্ট ও সমাজকর্মী।

এসইউ/এএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]