সারাদেশের মতো রাজবাড়ীতেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। ফলে পেট্রোল পাম্পে তেল আসার খবরে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও যানবাহনের চালকসহ বাইকাররা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজবাড়ীর পলাশ পাম্পে গিয়ে দেখা যায় লম্বা সিরিয়াল।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানান, সকাল ১০টা থেকে তেল সরবরাহ শুরু হলেও খুব সকাল থেকে পাম্প প্রাঙ্গণসহ সড়কে লম্বা সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। সিরিয়ালে রয়েছে কৃষক, ব্যবসায়ী, সরকারি দপ্তরের গাড়ি, বাস-ট্রাক ও মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন। ফলে চাপ সামাল দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আজ তিন হাজার লিটার ডিজেল, তিন হাজার লিটার পেট্রোল ও দুই হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। যে চাপ, তাতে দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তবে এ পরিমাণ তেল আগে ২৪ ঘণ্টাতেও শেষ হতো না।
এদিকে রাজবাড়ী জেলা শহরের তিনটি পেট্রোল পাম্পের মধ্যে দুটিসহ জেলার বেশ কয়েকটি পাম্পে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
অপরদিকে সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণসহ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পেট্রোল পাম্পে কাজ করতে দেখা গেছে ট্যাগ অফিসারসহ পুলিশ।
যানবাহন ও বাইকাররা বলেন, এভাবে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় চলে যায়। ফলে সময়ের কাজ সময়মতো করতে পারছেন না। তাছাড়া দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে তেল নিলেও চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। তারপরও অনেকে আবার সিরিয়াল ভেঙে ভিআইপি ভাবে তেল নিয়ে যাচ্ছেন।
এভাবে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া যে কত কষ্টের সেটি সরকারের মন্ত্রী-আমলাদের একদিন লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখলে বোঝানো উচিত।
রাজবাড়ীর পলাশ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বিপুল রুদ্র বলেন, সকাল ১০টা থেকে তেল দেওয়া শুরু হয়েছে। আজ ৩ হাজার লিটার ডিজেল, ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ২ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছেন। যে সিরিয়াল রয়েছে, তাতে দ্রুত এ তেল শেষ হয়ে যাবে। এখন বেশি তেল পেয়েও চাহিদা মেটাতে পারছেন না।
রুবেলুর রহমান/আরএইচ/এএসএম