প্রতিবন্ধীত্বকে জয় করে সফল কৃষি উদ্যোক্তা মাসুদ রানা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০

আলমগীর হান্নান

জীবন সংগ্রামে প্রতিবন্ধীত্ব যে কোনো বাঁধা নয় তা, প্রমাণ করলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তরুণ কৃষক মাসুদ রানা। মায়ের মৃত্যুশোকে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে মাসুদের। কিন্তু সেই মাসুদ রানাই আজ অনেকের রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন। অর্থের অভাবে থেমে গিয়েছিলো তার উচ্চশিক্ষিত হবার স্বপ্ন। আজ তার অর্থের অভাব নেই।

ডুমুরিয়া উপজেলার খলসী গ্রামের তরুণ কৃষক মাসুদ রানা। বাবা শেখ আব্দুর রউফ, পেশায় ছিলেন একজন কৃষক। মা রেহানা বেগম পেশায় গৃহিণী ছিলেন। বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শিখে ভালো কোন চাকরি করবেন তিনি। সবকিছু চলছিলও ঠিকভাবে। ২০০৩ সালে মারা যান মাসুদ রানার মা। মায়ের মৃত্যু শোক সহ্য করতে না পেরে মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে তার। দীর্ঘদিন ছিলেন আনমনা হয়ে।

মাসুদ জানান, মা যখন মারা যান তখন তিনি খুলনা সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। এ সময় প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় থেমে যায় তার পড়াশোনা।

মাসুদ রানা নিজেকে প্রতিবন্ধী ভাবতে নারাজ। তার আত্মশক্তি এবং আত্মসম্মানবোধ কখনো কারো কাছে নত হয়ে কিছু গ্রহণ করতে শেখায়নি। সংসারের এ দূরাবস্থায় সে কী করবে, কার কাছে যাবে, কীভাবে দুবেলা খাবার জুটবে ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে শুরু করে। অবশেষে বাপ-দাদার আদি পেশা কৃষিতে নিজেকে মনোনিবেশ করেন।

Masood-Rana-Farm

শিক্ষিত এই তরুণ প্রথমে গতানুগতিক কৃষি কাজ করে কেবল লোকসানের মুখই দেখতে থাকেন। অবশেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আধুনিক প্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বিভিন্ন ধরনের সবজি, মাছ, গরু-ছাগল এবং ফল ফসলের চাষাবাদ করেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা ও দক্ষ কৃষক সংগঠক হিসেবে।

বর্তমানে তিনি ১ একর জমিতে ঘের করে বছর ব্যাপি ঘেরের আইলে অফসিজন তরমুজ এবং শিম চাষ করে বছরে দেড় লাখ টাকা লাভ করছেন। একজন নিন্মবিত্ত শ্রেণির কৃষক হিসেবে তিনি কৃষি কাজে পুরোপুরি সফল।

কৃষি কাজের পাশাপাশি বাড়িতে একটি ফ্রিজিয়ান বকনা গরু ও সাতটি ছাগল আছে, যেগুলো তার স্ত্রী দেখাশোনা করে। সেখান থেকেও বছরে ভালোই আয় হয়। তার দুইটি প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট থাকলেও সমাজসেবা বা কোনো দাতা সংস্থার কাছ থেকে কখনো কোনো সুবিধা গ্রহণ করেনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি।

Masood-Rana-Farm-1

তিনি বর্তমান এলাকার রোল মডেল। তিনি একাধারে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খলশী আই পিএম ক্লাব, খলশী মৎস্য চাষি সমবায় সমিতি লিমিটেড, খলশী গাভী পালন সিআইজি (প্রাণিসম্পদ) সমবায় সমিতি লিমিটেডের। পাশাপাশি সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত আছেন ডুমুরিয়া যুব সংঘ ক্লাব, ডুমুরিয়া ব্লাড ডোনার্স ক্লাব, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে খলশী সমাজ কল্যাণ সমিতি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, মাসুদ রানা প্রতিবন্ধী কৃষক হিসেবে এলাকার রোল মডেল। প্রতিবন্ধীরা যে সমাজের বোঝা না, তারাও অনেক কিছু করতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ মাসুদ রানা। আমি ২০১৮ সালে এ উপজেলায় যোগদানের পর তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং ভার্মি কম্পোস্ট এবং তরমুজের প্রদর্শনী দিয়েছি। প্রতিনিয়ত আমি নিজে তার সঙ্গে ও সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।

তার সার্বিক উন্নয়নের জন্য যা যা করার দরকার আমার দিক দিয়ে তা করব। সে সবাইকলকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বিষয় নয়, দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে অসাধ্যকেও সাধন করা যায়।

এমএমএফ/এএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]