বাদামে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৯:০১ এএম, ০৮ জুন ২০২২

নীলফামারী জেলায় বাদাম চাষে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। লাভজনক ফসল হওয়ায় এখানকার কৃষকরা বাদাম চাষে ঝুঁকেছেন। গতবারের তুলনায় চলতি মৌসুমে বেড়েছে বাদামের চাষ। স্বল্প খরচে বাদাম চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাদাম চাষে আগ্রাহী হচ্ছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। বেলে দো-আঁশ মাটিতে বাদামের চাষ ভালো হয়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে তেমন শ্রম দিতে হয় না। রোগ বালাই কম হওয়ায় কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। কয়েকবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করলেই ফসল ভালো হয়। তাছাড়া বাদাম বিক্রি করতে তেমন একটা ঝামেলা পোহাতে হয় না।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে শ্রমিক কম লাগে তাই কৃষকদের শ্রমিক নিয়ে ততটা চিন্তা করতে হয় না। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস বাদামের বীজ বপনের সময়। বপনের সময় থেকে ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে এ ফসল সংগ্রহ করা যায়।

ডোমার সদর ইউনিয়নের বাদাম চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছি। ফাগুন মাসে বীজ বপনের পর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ দিকে বাদাম জমি থেকে সংগ্রহ শুরু করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ২০ কেজি বীজ লাগাতে হয়। প্রতি কেজি বীজ ২০০ টাকা করে। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ ফলন হয়ে থাকে।

মনির হোসেন নামে আরও একজন কৃষক বলেন, আর কয়েকদিনের মধ্যে জমি থেকে বাদাম সংগ্রহের কাজ শেষ হবে। তারপর বাদাম শুকিয়ে মজুত করব। দাম বেড়ে গেলে বাদাম বিক্রি করে দেব। অন্যান্য ফসল ঘড়ে তুলতে যে রকম ঝামেলা হয় বাদাম ঘড়ে তুলতে খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হয় না। তিনি বলেন শ্রমিকরা বাদাম তুলে ঘড়ে পৌঁছে দিতে বিঘায় ২ হাজার ৪০০ টাকা করে নেয়। বর্তমানে ৩৫০০ টাকা মণ দরে বাদাম বিক্রি হচ্ছে বলে বাদাম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

জেলার ডিমলা উপজেলার তিস্তার বালুচরে বেশি পরিমাণ জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। রহমান নামে এক কৃষক জানান, প্রতি বিঘায় বাদাম চাষ ও তোলা পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ বাদাম পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়ে থাকে। যা অন্যান্য ফসলে হয় না।

চড়খড়িবাড়ীর রসিদুল জানান, এবার বাদামের বীজ চড়াদামে কিনতে হয়েছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হতে পারে। ডিমলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, পলি জমে থাকার ফলে চরের জমি অনেক উর্বর। যার ফলে চরে যেকোনো ফসল ভালো হয়ে থাকে। আর চরের জমিগুলো ভুট্টা ও বাদাম চাষের জন্য আদর্শ। বাদাম ব্যবসায়ী বিপুল জানান, নতুন বাদাম বাজারে ৩৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম আরও বাড়বে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ডোমার সদরের ফিরোজ কবির জানান, তিন ধরনের বাদাম এই এলাকায় জনপ্রিয়। এরই মধ্যে চিলমারি, হাইব্রিড ও লরি রয়েছে। তবে হাইব্রিড জাতের বাদামের দাম কিছুটা বেশি। উচুঁ ও বালু মাটির জন্য বাদাম চাষ উপযুক্ত। আর বালু মাটি হলে বিঘায় ১ মণের বেশি বাদাম উৎপাদন হয়ে থাকে।

কৃষক তাইজুল জানান, বাদাম চাষে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না আবার ফসলও ভালো হয়। বাদাম ঘরে তোলা পর্যন্ত ২ থেকে ৩ বার জমিতে স্প্রে করতে হয়। প্রতি স্প্রেতে বিঘায় খরচ হয় ২০০ টাকা করে। প্রতি বিঘায় দুইবার সার দিতে হয়। পটাশ ও ঢেপা সার ২০ কেজি করে দিতে হয় বিঘা প্রতি।

বাদামে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের বাদাম চাষি রবিউল ইসলাম জানান, বাদাম মাটিতে রোপণের আগে জমি ভালো করে চাষ করতে হয়। জমিতে ৩ থেকে ৪টি চাষ দিতে হয়। কারণ মাটি নরম থাকলে বাদাম আকারে বড় হয়। ১ বিঘা জমি তৈরিসহ বাদাম বীজ বপন থেকে বাদাম সংগ্রহ করা পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়।

সোনারায় ইউনিয়নের চিলমারীর ডাঙ্গার বাদাম চাষি নুর আলম জানান, আমি দেড় বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। ভালো ফলনের আশা করছি। বিঘা প্রতি জমিতে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত বাদাম হবে। বর্তমানে প্রতি মণ বাদাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা করে চলছে। তবে বাদামের মান অনুযায়ী দাম হাঁকছেন কৃষকরা। আমার একটি জমিতে আগাম বাদাম চাষ করেছি। সেই জমিতে ৮ মণ বাদাম হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার ২ থেকে ৩ মণ বাদাম বেশি হয়েছে।

ডোমার উপজেলায় ৮৪০ হেক্টর জমিতে এবার বাদাম চাষ করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাদামের ভালো ফলন আশা করছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ জানায় বাদাম চাষের জন্য উপযোগী ডোমার উপজেলার চিলমারীর ডাঙ্গা, বড় রাউতা চিলাই, জলদান পাড়া, বগুড়ার ডাঙ্গা ও ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নে বাদাম চাষ বেশি হয়।

বাদাম চাষে তেমন খরচ লাগে না। গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ বেশি হয়েছে। ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিছুজ্জামান বলেন, কৃষক আলু উঠানোর পর বাদাম চাষ করে, বাদাম তুলে আমন ধান লাগানো হয়। বছরে জমিতে তিনটি ফসল চাষ করতে পারছেন কৃষকরা। এতে কৃষক সবদিক দিয়ে লাভবান হচ্ছেন। এবার উপজেলায় ৮৪০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। ভালো ফলনের আশা করছি।

এমএমএফ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]