ভিটামিন-ই সমৃদ্ধসহ ৬টি নতুন ধানের জাত অনুমোদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৪ এএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দু’টি হাইব্রিডসহ আরও ছয়টি নতুন ধানের জাত অনুমোদন পেয়েছে। যার মধ্যে একটি ধানের জাত হচ্ছে ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় বাংলাদেশ ধান গবষেণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত নতুন এই ছয়টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সারা দেশজুড়ে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে একটি ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ, ১টি লবণাক্ততা সহনশীল, একটি ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী, একটি হাওরাঞ্চলের উপযোগী ও ঠান্ডা সহনশীল এবং দুটি লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী হাইব্রিড জাত রয়েছে। সর্বশেষ এ ৬টি জাতসহ ব্রি উদ্ভাবিত জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৭টিতে।

নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান১১৫ একটি ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জাত। এটি বাংলাদেশের প্রথম উচ্চ ফলনশীল কালো চালের জাত যা এন্থার কালচার পদ্ধতি ব্যবহার করে উদ্ভাবন করা হয়। এ জাতের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭ দশমিক ৪ টন এবং জীবনকাল ১৩৭-১৪২ দিন। পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০০ সেমি। ধান লম্বা ও চিকন। ধান কালচে বাদামি রঙের এবং ধানের দানার রং কালো। ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ১৭ দশমিক ৮ গ্রাম। এ ধানের অ্যামাইলোজ ২৩ শতাংশ। ধানের দানায় ভিটামিন ই এবং সায়ানিডিন-৩- গ্লুকোসাইডের পরিমাণ যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৯৮ মিলিগ্রাম/কেজি এবং ২৯ দশমিক ১২ মিলিগ্রাম/কেজি। এছাড়াও ধানের দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে ৫৩৬ দশমিক ৬১ গ্রাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান।

এছাড়া ব্রি ধান১১৬ বোরো মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল একটি নাবী জাত। ব্রি ধান১১৬ জাতটি ব্রি ধান৯২ এর সমসাময়িক একটি দীর্ঘ জীবনকালের জাত। গড় জীবনকাল ১৫৪ দিন। এ জাতের চালের আকার আকৃতি মাঝারি চিকন এবং ব্রি ধান৯২ এর চালের চেয়ে সরু। গাছ শক্ত এবং মজবুত বিধায় এ জাতটি সহজে হেলে পরে না। এর ডিগ পাতা খাড়া ও লম্বা বিধায় ধানের শীষ ওপর থেকে দেখা যায় না। ধান পাকলেও এর পাতা সবুজ থাকে। প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় দশটি অঞ্চলে ব্রি ধান৯২ এর চেয়ে প্রায় ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে। এ জাতের হেক্টরে গড় ফলন ৮ দশমিক ৫৯ টন। উপযুক্ত পরিবেশে সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে এ জাতটি হেক্টরে ১০ দশমিক ৩৬ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এর চাষাবাদ পদ্ধতি ব্রি ধান৯২ এর অনুরুপ বিধায় এটি বিকল্প হিসেবে আবাদ করা যাবে।

ব্রি ধান১১৭ বোরো মৌসুমে স্বল্প জীবনকালীন লবণাক্ততা সহনশীল ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত। এ জাতের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮ দশমিক ৬ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এর ফলন হেক্টর প্রতি ৯ দশমিক ৯০ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। এ জাতের দানা মাঝারি মোটা এবং সোনালী বর্ণের। এ জাতের জীবনকাল ১২৯-১৩৫ দিন (গড় জীবনকাল ১২৯ দিন), যা বোরো মৌসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান২৮ এর সমান জীবনকাল।

ব্রি ধান১১৮ জাতটি হাওড় অঞ্চলের উপযোগী ঠান্ডা সহনশীল ধানের জাত। এ জাতটি প্রজনন পর্যায়ে ঠান্ডা সহনশীল হওয়ায় হাওরে আকস্মিক বন্যায় আধাপাকা থাকা পর্যায়ে ধান ডুবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়ানোর জন্য এ জাতটি আগাম বপন (২৫ অক্টোবর-১ নভেম্বর) করলেও ধান চিটা হবে না। কমপক্ষে ৬ টন/হে ফলন দিতে সক্ষম, তবে স্বাভাবিক সময়ে অর্থাৎ ১৫-২০ নভেম্বর বপনে ১৪৫ দিনে ৬ দশমিক ৯-৮ দশমিক ৫ টন/হে পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ ধানের চালের আকার আকৃতি মাঝারি মোটা। ভাত ঝরঝরে এবং সাদা।

নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোসহ ব্রি’র ৩৯টি জাত রয়েছে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন বৈরি পরিবেশ সহনশীল। ব্রি উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ফলেই বর্তমানে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়। যেখানে স্বাধীনতার আগে ১৯৭১ সালে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ, এখন তা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময়ে লোকসংখ্যা আড়াই গুণ বেড়েছে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ।

এনএইচ/জেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।