আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জনআস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে: আবু হানিফ
দেশে সরকার পরিবর্তনের পর মানুষ স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।
তিনি বলেন, হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে এবং এ পরিস্থিতি সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
শনিবার (৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আবু হানিফ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি সমালোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। এ অবস্থার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিও উঠেছিল।
তিনি মনে করেন, পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সিদ্ধান্তহীনতা। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংকট মোকাবিলায় শক্ত অবস্থান প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সরকার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও একধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করেছে, যার সুযোগ নিয়েছে অপরাধী চক্রগুলো।
আবু হানিফ আরও লেখেন, ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে বহু শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধী জামিনে বের হয়ে আসে। তাদের অনেকেই পুরোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। কোথাও কোথাও চাঁদাবাজি, দখল, অস্ত্রের মহড়া ও প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুরোনো সন্ত্রাসী সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার গঠিত হলেও মানুষ এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি দেখতে পাচ্ছে না। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, নারী নির্যাতন কিংবা চাঁদাবাজির খবর সামনে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এসব ঘটনার বিস্তার মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ফেসবুক পোস্টে আবু হানিফ সতর্ক করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হতে পারে।
এমডিএএ/এমএমকে