দেশজুড়ে

বৃক্ষমেলা উদ্বোধনের আগেই বটগাছ কেটে নিল পুলিশ

যশোরে বৃক্ষমেলা উদ্বোধনের দুই দিন আগে শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানার ঐহিত্যবাহী বটগাছটি কেটে নিয়েছে পুলিশ। 

দেড় মাস আগে ডালপালা কেটে নেয়ার পর গতকাল রোববার মধ্যরাতে গাছটির গোড়া থেকে কেটে নেয়া হল। এ জায়গটিতে পুলিশ মার্কেট করবে বলে গাছটি কাটা হয়েছে। ইতোমধ্যে কেটে ফেলা গাছটির পূর্বপাশে মাকের্ট নির্মাণ সম্পন্ন করেছে পুলিশ।গত ৮ জুন গাছটির সব ডালপালা কেটে নিয়েছিলো পুলিশ। তখন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তড়িঘড়ি করে কে বা কারা কেটে নিয়েছে এ মর্মে পুলিশ কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। আর এখন গোড়া থেকে কেটে বলছে, তারা কিছুই জানে না।সোমবার বিকেল ৩টায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমি তো আপনার কাছ থেকে এই খবর প্রথম শুনছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডালপালা কাটার সময় জিডি হয়েছিলো। এখন মামলা হবে।ওসি বলেন, গাছ পুলিশ কাটেনি। আর যদি কেটে থাকে তাহলে পুলিশের বিরুদ্ধেও মামলা হবে। কেন-পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হয় না বুঝি?তবে পুলিশের এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সচেতনমহল। কারণ হিসেবে অনেকে বলছে, রোববার মধ্যরাত থেকে গাছটি কাটা শুরু হলেও গুঁড়ি সরাতে সোমবার সকাল হয়ে যায়। তখন পুলিশের অনেকে সাদা পোশাকে তার আশপাশে অবস্থান করছিল। শুধু তাই নয়, বটগাছটির ২০ হাত দূরেই পুলিশ স্টাফ কোয়ার্টার। সেখানে পুলিশের এসআই ও কনেস্টবলরা থাকেন। অথচ সাধারণ মানুষ গাছ চুরির বিষয়টি জানলেও পুলিশ বিষয়টি নিয়ে নাটক করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ হাসান বাবু জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে ঢাকায় জাতীয় বৃক্ষরোপন অভিযান বৃক্ষমেলায় পরিবেশ রক্ষায় সকলকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানালেন আর এই রাতেই পুলিশ গাছ কেটে নিল।স্থানীয়রা জানান, যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা থেকে ঘোপ এলাকার প্রবেশ মুখের নামটিই ‘বটতলা’। স্বাধীনতার আগে থেকেই এখানে সুবিশাল দু’টি বটবৃক্ষ ছিল। ৭১’এ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক আর্মি এই গাছ কেটে ফেলে। যুদ্ধজয়ের পর এখানে আবারো বটগাছ লাগানো হয়। সেই ঐহিত্যবাহী বটগাছটি রাতের আঁধারে গোড়া থেকে কেটে ফেললো পুলিশ।গত ৮ জুন যখন গাছের সমস্ত ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছিলো। তখন শহরের ঘোপের বাসিন্দা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ’র কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম বটগাছটি কেটে ফেলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, পুলিশ একটি ঐহিত্যকে হত্যা করেছে। এই গাছটির সাথে ঘোপবাসী, যশোরবাসীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ৭১’এ পাক আর্মি এই গাছ কেটে ফেলেছিল। স্বাধীনতার এত বছর পরে এসে সেই বটতলার গাছ কাটলো পুলিশ। যশোরের পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ সবুজ জাগো নিউজকে বলেন, মানুষের ছায়া দানকারী ও পাখিদের আবাসস্থল এই গাছটি কেটে নেয়া অনভিপ্রেত। যারা যে কারণেরই কাটুক না কেন এভাবে গাছ কাটা সমর্থনযোগ্য নয়।মিলন রহমান/এএম/এবিএস