দেশজুড়ে

বাঘারপাড়ার সাবেক মেয়র খলিলুর জেলহাজতে

ক্ষমতার অপব্যবহার করে পৌর ভবন নির্মাণের দায়ে যশোরের বাঘারপাড়ার সাবেক মেয়র খলিলুর রহমান বিশ্বাসকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়।মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এই আদেশ দেন।দণ্ডপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের মৃত সুফি আবু দাউদ হোসেনের ছেলে।আদালত সূত্র জানায়, বাঘারপাড়ার দোহাকুলা হাট পেরিফেরির অর্ধশতক জমি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে দোহাকুলা গ্রামের মশিয়ার রহমান ওরফে মশু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। পরে নবগঠিত পৌরসভার তৎকালীন মেয়র খলিলুর রহমান বিশ্বাস বেআইনিভাবে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদ করে সেখানে পৌর ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ ঘটনায় ২০১২ সালে বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের মশিয়ার রহমান ওরফে মশু বাদী হয়ে যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন। মামলাটির একমাত্র আসামি ছিলেন তৎকালীন মেয়র খলিলুর রহমান বিশ্বাস। জেলা ও দায়রা জজ পিটিশন মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়কে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। দুদক দীর্ঘ তদন্ত শেষে খলিলুর রহমানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। শুনানি শেষে মঙ্গলবার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। এসময় দণ্ডপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এসএম বদরুজ্জামান পলাশ। দণ্ডপ্রাপ্ত খলিলুর রহমানের পক্ষে ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী আবদুস শহীদ লাল। প্রসঙ্গত, খলিলুর রহমান বিশ্বাস বাঘারপাড়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র। পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর মেয়র পদে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ে তিনি নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। এরপর তিনি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়ের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। অবশ্য পরে তিনি রাজনীতিতে আর সক্রিয় ছিলেন না।মিলন রহমান/এআরএ/এবিএস