ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ব্রিজের নিচে বসবাস স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রহিমা বেগমের। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে সরকারি খাসজমির ১২ শতক বরাদ্দ পেয়েছেন রহিমা বেগম। তবে অর্থের অভাবে এখনো ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিতে পারছেন না এই সহায়-সম্বলহীন নারী ইউপি সদস্য। প্রসঙ্গত, নাগরিক সুবিধার দেখভাল করলেও নিজেরই মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের নির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রহিমা বেগমের।শীত কি বর্ষায় কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই এই মহিলা মেম্বার ও তার পরিবারের লোকজনের। ফলে দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্যস্ততম রাস্তা সঈদপুর বাজার সংলগ্ন মনু খালের ব্রিজের নিচে বসবাস করে আসছেন তিনি। দিন-রাত তাদের ওপর দিয়ে চলাচল করে কয়েক হাজার যানবাহন। আর বর্ষার সময় খালে পানি বেড়ে যায়। এতে তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।গত নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েও ভূমিহীনের তালিকা থেকে নাম কাটাতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে গত ৩ জানুয়ারি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাও করে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ প্রতিবেদনটি নজরে আসে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের। ওই দিনই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার যোগাযোগ করেন সাংবাদিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে। তিনি নারী ইউপি সদস্য রহিমা বেগমের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে সংবাদের সত্যতা পান।তিনি ভূমিহীন হিসেবে রহিমা বেগমকে পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নেন। এর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জীতেন্দ্র কুমার নাথের সাথে আলোচনা করে ওই এলাকায়ই খাস জমির ১২ শতক বরাদ্দ দেন রহিমা বেগমকে। ফ্রেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভূমি রহিমা বেগমের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। তবে খাস জমি পেলেও অর্থের অভাবে এখনো ঘর বাড়ি নির্মাণ করতে পারেননি ওই নারী ইউপি সদস্য।স্থানীয়রা জানায়, অভাব কখনই থামাতে পারেনি রহিমা বেগমকে। সবার আগে ছুটে যান এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে। এর প্রতিদানও পেয়েছেন নির্বাচনে। মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ে তিন বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন রহিমা। গত ইউপি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর তিনি কোমর বেঁধে নির্বাচন প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েন। গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মাইক প্রতীক নিয়ে অপর দুই প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন রহিমা বেগম।সহায়-সম্বলহীন এ ইউপি সদস্যের বয়স প্রায় ৫০ বছর। তিনি আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মকদ্দুছ মিয়ার স্ত্রী। তাদের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। অসুস্থ স্বামী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েকে নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিশেহারা হয়ে পড়েন রহিমা বেগম। দীর্ঘদিন ঘটক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এই সুবাধেই এলাকার সকল মানুষের সঙ্গে রহিমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ জন্যই বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন তিনি।এবার গণমাধ্যমের কল্যাণে ইউএনও তাজিনা সারোয়ার এর আশু হস্তক্ষেপে তিনি মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে নারী ইউপি সদস্য রহিমা বেগম বলেন, আপনাদের সংবাদ দেখে ইউএনও মহোদয় আমার পরিবারকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। এর জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।রহিমা বেগমকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজিনা সারোয়ার বলেন, বিষয়টি আগে আমাদেরকে কেউ জানায়নি। আমি গণমাধ্যমে বিষয়টি জেনে খোজঁ খবর নিয়ে রহিমা বেগমকে পনর্বাসন করার উদ্যোগ নেই। অতঃপর তাকে ১২ শতক খাস জমি বরাদ্দ দিয়েছি এবং এই ১২ শতক ভূমি খুব শিগগিরই রহিমা বেগমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে।এএম/জেআইএম