জাতীয়

বিমান বাংলাদেশকে ১ কোটি টাকা জরিমানা করল সৌদি

সৌদি আরব সরকারের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী প্রতিটি এয়ারক্রাফটের ভেতরে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। তাদের সেই বিধি না মেনে সৌদি বিমান বন্দরে যাওয়ার অপরাধে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটের স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে দেশটির বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদির বিমান অফিস সূত্রে জাগো নিউজকে জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ফ্লাইটের দিন তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

বিমান জানায়, দেশটির সরকার ৪ লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছে যা বাংলাদেশি প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকার সমান। বর্তমানে সরকারের দেয়া ঋণের টাকায় পরিচালিত বিমানের এতবড় ক্ষতির কারণ জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোকাব্বির হোসেনকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিমানের কেউ মুখ না খুললেও দায়ীদের খুঁজতে একটি কমিটি গঠন করেছে বিমান। বিমানের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমদ ৩ সদস্যের এই কমিটি গঠন করে দেন।

কমিটিতে বিমানের ব্যবস্থাপক গ্রাউন্ড সার্ভিস (এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস) মো. গোলাম সারওয়ার আহ্বায়ক, নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মাছুদুল হাছানকে সদস্য সচিব এবং সদস্য করা হয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (হশাআবি) অর্থ বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক প্রণব কুমার বড়ুয়াকে।

কমিটিকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করাসহ ভবিষ্যতে যাতে এমন কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

জরিমানা প্রসঙ্গে যা বলল বিমান মন্ত্রণালয়

বুধবার (১৫ জুলাই) এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রকৃত বিষয় হলো যে ঘটনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে জরিমানা করা হয়েছিল, তা ২০১৭ সাল ও তার নিকটবর্তী সময়ে সংঘটিত পুরাতন ঘটনা। যে বা যাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে এই জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছিল ওই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলত বিমানের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আসা মাত্রই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের জেদ্দা হেলথ ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-জেদ্দা- ঢাকা রুটে পরিচালিত ফ্লাইটে ‌‘ওয়ান শট স্প্রে’ নামক একটি জীবাণুনাশক দিতে হয়, যা বিমানের ফ্লাইটেও যথাযথভাবে দেয়া হয়। নির্ধারিত এই জীবাণুনাশক দেয়ার পর তার খালি টিউবগুলো নিয়ম অনুযায়ী জেদ্দা হেলথ ডিপার্টমেন্টের কাছে পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় বিমানের ওই ফ্লাইটে কর্মরত কারো কারো অবহেলার দরুণ তা যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট সংখ্যায় উপস্থাপন না করায় সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ মার্চ ২০১৭ ও তার নিকটবর্তী সময়ে এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনায় ওই জরিমানা আরোপ করে। উল্লেখ্য, জরিমানার টাকা ওই সময়েই পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি তখন তদন্ত কার্যক্রমের বাইরে রয়ে গিয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে বিদ্যমান সকল অনিয়ম দূর করার আন্তরিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত কারো অবহেলার কারণে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধ করতে এই তদন্ত আবশ্যক। এছাড়া পূর্বের বা বর্তমানের যেকোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিমান কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিমান কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এরকম কাজের জন্য প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির মুখোমুখি করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হবে।

এআর/এমআরএম