গাজীপুর মহানগরীর দাক্ষিণখান পূর্বপাড়া এলাকায় সাদিয়া আফরিন মায়া (৮) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার দিনগত মধ্যরাতে বাড়ির পাশের একটি সেপটি ট্যাংক থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ধর্ষক রহমত উল্লাহর মনার মা ফজিলত বেগম ওরফে ফাতেমা (৪০) ও তার বোন নাসিমা আক্তারকে আটক করা হয়েছে। নিহত সাদিয়া আফরিন মায়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দাক্ষিণখান এলাকার রাজমিস্ত্রী কামাল হোসেনের মেয়ে এবং হায়দরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।নিহতের বাবা কামাল হোসেন জানান, তার সঙ্গে সৌদি প্রবাসী বড় ভাই কালাম মিয়ার জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। এনিয়ে প্রায়ই তাদের দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। রোববার সকালে মায়ার মা গার্মেন্টে, বড় বোন স্কুলে এবং তিনি কাজে চলে যান। দুপরে তিনি কাজ থেকে বাড়িতে এসে খাবার খেয়ে ফের কাজে যান। তখন মায়া বাড়িতে একাই ছিল। সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি ফিরে শুনেন ছোট মেয়ে মায়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তিনি ও পরিবারের লোকজন মিলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি ও মাইকিং করেন। এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে তার ভাতিজা রহমত উল্লা মনাদের (১৮) বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের স্লাব সরানো দেখতে পেয়ে সবার সন্দেহ হয়। পরে সেফটি ট্যাংকটির স্লাব সরিয়ে নিচে বাঁশ দিয়ে নাড়া দিলে মায়ার মরদেহ ভেসে উঠে। পরে থানায় খবর দিয়ে পুলিশ হাত-পা ও গলায় রশি বাধা অবস্থায় মায়ার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। জয়দেবপুর থানাধীন পূবাইল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরো জানান, রাতেই মামলার আসামি রহমত উল্লাহর মনার মা ফজিলত বেগম ওরফে ফাতেমা (৪০) ও তার বোন নাসিমা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে রহমত উল্লাহ মনা পলাতক রয়েছে। আমিনুল ইসলাম/এফএ/এমএস