নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার কটূক্তির প্রতিবাদে ইবিতে মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইবি
প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

মুসলিম নারীদের ‘নিকাব’ নিয়ে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তারা এই মানববন্ধন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘লজ্জা আমার অলংকার, নিকাব আমার অধিকার’, ‘নিকাব আমার পরিচয়’, ‘ইসলামী সংস্কৃতির অপব্যাখ্যা রুখে দাও’, ‘হিজাব আমার অধিকার’, ‘হিজাব বিদ্বেষ বন্ধ কর, নারীর স্বাধীনতা রক্ষা কর’, ‘নিকাব নয় মানসিকতা বদলাও’, ‘নিকাব আমার সম্মান, নিকাব আমার মুক্তি’সহ বিভিন্ন প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া মাহমুদ মিম বলেন, কেউ যদি পর্দা করে নিজেকে আড়াল করে, তাকে কটূক্তি করা অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। পোশাকের স্বাধীনতা বলতে শুধু জিন্স বা ওয়েস্টার্ন পোশাক নয়। ফ্রক পরা মেয়ে যেমন স্বাধীন, তেমনি বোরকা ও নিকাব পরা মেয়েরও সেই স্বাধীনতা থাকতে হবে। একটি মুসলিম দেশে শুধু ওয়েস্টার্ন কালচারের পোশাককে স্বাধীনতার মানদণ্ড বানানো লজ্জাজনক। বোরকা হোক বা জিন্স নারীর পোশাক নিয়ে বিভাজনমূলক মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিএনপি নেতা এই মন্তব্যকে নারীর প্রতি বিদ্বেষ, অজ্ঞতা ও নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, বিএনপির একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিজাব এবং নিকাব নিয়ে কি পরিমাণ নোংরা মন্তব্য করেছেন! আমরা নারী শিক্ষার্থীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটা তার নারীর প্রতি বিদ্বেষ, অজ্ঞতা ও নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ছিল।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতা হয়ে তিনি কীভাবে বলেন ‘নিকাব পতিতাবৃত্তির পোশক? নিকাব কোনো পোশাক হতে পারে না’। নিকাব মুসলিম সমাজে বহুকাল ধরে প্রচলিত নারীদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। তিনি এ বক্তব্যের মাধ্যমে নারীদের চরিত্রে কাঁদা ছুড়েছেন।

তাজমিন রহমান বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, নারীদের চরিত্রে যেহেতু তিনি কাদা ছুড়েছেন তার উল্টো প্রতিঘাত তাকে নিতে হবে। বিএনপিকে দেখাতে হবে তারা এই নেতার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন। অন্যথায় আমরা ধরে নিবো এই বক্তব্য বিএনপি ধারণ ও লালন করে। এই নেতারা যখন সংসদে যাবে আমাম মনে হয় আমরা নিকাব করার কারণে জেলে যেতে পারি। অবিলম্বে এই নেতারা বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। নারীর সম্মান নিয়ে আর কোনো ছিনিমিনি চলবে না। নিকাব আমার অধিকার, সম্মান, স্বাধীনতা।

ইরফান উল্লাহ/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।