‘দ্বিমত হবেই কিন্তু ভাষা নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২০ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দ্বিমত হবেই কিন্তু ভাষা নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পায়রা চত্বরে ভাষা ও শব্দের রাজনীতিকে ঘিরে আয়োজিত বিশেষ উন্মুক্ত বিতর্কে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ডিবেটিং সোসাইটির (ডিইউডিএস) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘শব্দের রাজনীতি: আরোপিত নাকি সহজাত?’ শীর্ষক এ আয়োজন।

অনুষ্ঠানে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা। ড. তারিক মনজুর ছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. শাহনান মৈশান (সহযোগী অধ্যাপক, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), কবি ও ক্রিটিক ইমরুল হাসান এবং প্রাবন্ধিক ও গবেষক তাহমিদাল জামি। প্রারম্ভিক বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক মায়িশা মালিহা, নুসরাত জাহান শামামা, ইমরান হোসেন ফাহিম এবং ডিইউডিএসের সাধারণ সম্পাদক রাগীব আনজুম। সভাপতিত্ব করেন ডিইউডিএসের সভাপতি জুবায়ের হোসেন।

আলোচনায় বক্তারা ভাষা ও শব্দের ভেতর নিহিত ক্ষমতার সম্পর্ক, রাজনৈতিক প্রভাব, সাংস্কৃতিক নির্মাণ এবং সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে শব্দের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তাদের মতে, শব্দ কেবল নিরপেক্ষ যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বরং তা ইতিহাস, সমাজ-রাজনীতি ও ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর ভাষাকে বহমান নদীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ভাষা একটা বহমান নদীর মতো। ভাষা গড়ে ওঠার মাঝে অপরায়ণ ও সহজাতকরণ উভয় প্রবণতাই থাকে। এই দুইয়ের মাধ্যমেই ভাষা এগিয়ে চলে। দ্বিমত হবেই কিন্তু ভাষা নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি ভাষাচর্চায় মতপার্থক্যকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখলেও বিভাজনমূলক প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।

ড. শাহনান মৈশান বলেন, ভাষা নিয়ে তর্ক যত বেশি জারি থাকবে, ভাষা ততই প্রাঞ্জল থাকবে।তাহমিদাল জামি মন্তব্য করেন, নদীকে যেভাবে বাঁধ দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা হয়, ভাষাকেও সেভাবে ক্ষমতাকাঠামো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। অনেকক্ষেত্রে মেরেও ফেলে।কবি ও ক্রিটিক ইমরুল হাসান বলেন, প্রমিত বাংলার নামে আমাদের সামনে বাংলার একটি কঠিন রূপ জারি রাখা হয়েছে; যেই ভাষা লেখার ও বলার জন্য বেশ কঠিন।

আয়োজক সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস) ভবিষ্যতেও এ ধরনের চিন্তনমূলক ও অংশগ্রহণভিত্তিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

এফএআর/এনএইচআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।