শাবিপ্রবি

ছাত্রদলের গণইফতারে খাবারের সংকট, ‘বহিরাগত’ প্রবেশের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ০৬ মার্চ ২০২৬

শাবিপ্রবি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের আয়োজিত গণইফতারে খাবার না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। আয়োজকদের দাবি, ধারণার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং বহিরাগতদের প্রবেশের কারণে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এই গণইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গণইফতার ও দোয়া মাহফিল সফল করতে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ৫৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। মোট দেড় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল আলাদা ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের পাশাপাশি সিলেট মহানগর ও জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইফতারের আগে থেকেই শাবিপ্রবির বিভিন্ন আবাসিক হল ও মেসের শিক্ষার্থীরা গোলচত্বরে জড়ো হতে থাকেন। তবে ইফতারের সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক শিক্ষার্থী খাবার পাননি। খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেককে ধাক্কাধাক্কিও করতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ইফতার না পেয়ে কেউ কেউ ক্যাম্পাসের দোকান থেকে খাবার কিনেছেন, আবার অনেকে শুধু পানি দিয়ে ইফতার সম্পন্ন করেছেন। ইফতার সামগ্রী ফুরিয়ে যাওয়ায় পরবর্তীতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জুসের ব্যবস্থা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ফেসবুক গ্রুপে সমালোচনা করে মো. শাহিদুজ্জামান সোহেল নামে এক শিক্ষার্থী গণইফতার হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন, টপ ক্লাস ম্যানেজমেন্ট! টেস্টি ট্রিটের জুস নিয়ে অবশেষে ইফতার ডান।

ছাত্রদলের গণইফতারে খাবারের সংকট, ‘বহিরাগত’ প্রবেশের অভিযোগ

আরেক শিক্ষার্থী ইমন মজুমদার অভিযোগ করে লিখেছেন, যারা ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবক) ছিল ওরাই ২/৩ টা করে প্যাকেট নিয়ে সরে যাচ্ছিলো। মানুষকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে ইফতার করতে দেওয়া তো দূরে থাক, রোজাটাও ভাঙতে দেওয়ার সুযোগ দিলো না। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গেলো।

বিষয়টি নিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা দেড় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি (প্রায় ২ হাজারের অধিক) মানুষ চলে আসায় খাবারের সংকট দেখা দেয়। শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের কিছু বহিরাগত চলে আসায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা তাৎক্ষণিক জুসের ব্যবস্থা করি।

ভলানটিয়ারদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি উসামা ইব্রাহিম জাগো নিউজকে বলেন, ভলান্টিয়াররা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই খাবার বিলি করেছেন। আমাদের আয়োজনের অধিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন এমন অনেকে আসায় খাবারে কম পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, শাবিপ্রবি ছাত্রদল দীর্ঘ ৯ বছর পর কমিটিতে আসছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো আমরা এমন আয়োজন (গণইফতার) করেছি কমিটি হওয়ার পরে। এখানে যে সংকটগুলো তৈরি হয়েছে সেখান থেকে আমরা শিক্ষা নিবো। আগামীতে আয়োজনে আমরা চেষ্টা করবো যাতে এ ধরনের সংকট তৈরি না হয়।

এসএইচ জাহিদ/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।