ঢাবিতে শনিবারেও বাস ট্রিপ চালুর দাবিতে ডাকসুর অবস্থান কর্মসূচি
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে পরিবহন খাতে সাড়ে চার কোটি টাকার বরাদ্দ আনার পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শনিবারের বাস ট্রিপ চালু না হওয়ায় ট্রেজারারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় সিনেট ভবনের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা চলছিল।
ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি থেকে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ আনা হলেও ট্রেজারার কার্যালয়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে শনিবারের ট্রিপ কার্যকর করা হচ্ছে না।
এসময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা, ‘শিক্ষার্থীদের অধিকার, খর্ব করে ট্রেজারার’, ‘ছি ও ছি ট্রাজারার, ধিক্কার ধিক্কার’, ,‘বাজেট দেওয়ার মুরোদ নাই, আনলে বলে দরকার নাই’, ‘ডাকসু যখন টার্গেট, বাতিল করে বাজেট’, এরকম নানা স্লোগান দেন।
এদিকে, সিন্ডিকেট সভায় ডাকসু থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠানোর কথা থাকলেও পরে ডাকসুর কয়েকজন নেতা একসঙ্গে সভাস্থলে প্রবেশ করেন। এসময় এক সিন্ডিকেট সদস্য ঘটনাটিকে ‘মব’ বলে উল্লেখ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শনিবার বাস ট্রিপ চালু করা। ডাকসু ইউজিসি থেকে পরিবহন খাতে সাড়ে চার কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে আসার পরও ট্রেজারার বিষয়টি আটকে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকদিন আগে স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। বিষয়টি তার টেবিলে কয়েকদিন ধরে পড়ে আছে। আমরা কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এটি তার অফিসের সিদ্ধান্ত এবং কখন এটি পাঠানো হবে সেটাও তার সিদ্ধান্ত।’
আসিফ আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমরা দুই বছরের জন্য বাজেট নিয়ে এসেছি। কিন্তু তিনি প্রশ্ন তুলছেন দুই বছর পরে কী হবে। অথচ ডাকসুর মেয়াদ এক বছর হলেও আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অতিরিক্ত বরাদ্দ এনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেছি। দুই বছর পরে তিনি নিজে ওই পদে থাকবেন কি‘না, তারও তো নিশ্চয়তা নেই।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘শুধু পরিবহন নয়, ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। একইভাবে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য কোটি টাকার বাজেট আনা হলেও সেই কাজও আটকে রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা জায়গায় তারা বাধা সৃষ্টি করছে, যেন ডাকসু কোনো কাজ করতে না পারে। এখন সিন্ডিকেট সভা চলছে। আমরা এখানে এসেছি এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যাবো না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ডাকসু নেতারা বিষয়টি তার কাছে উত্থাপন করেছিলেন। সে কারণে তিনি এটিকে সিন্ডিকেট সভার এজেন্ডাভুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এখন সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে এবং সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এফএআর/এসএনআর