গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক

পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানালো ডিএসই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ এএম, ০৮ মে ২০২৬
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ডিএসইর প্রতিনিধিদল/ছবি সংগৃহীত

পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ডিএসইর পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) গভীর রাতে এ তথ্য জানায় ডিএসই।

ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডিএসইর পরিচালক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম, স্নেহাশীষ বড়ুয়া, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, মো. সাজেদুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

বৈঠকে ডিএসই প্রতিনিধিদল জানান, পাঁচটি দুর্বল ইসলামী ব্যাংক- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তারা জানান, যথাযথ ক্ষতিপূরণ ছাড়া সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়মের দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ সময় ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান ডিএসই প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে পুঁজিবাজার উন্নয়নে আরও কয়েকটি প্রস্তাবও তুলে ধরে ডিএসই। প্রতিনিধিদল জানান, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কয়েকটি কাঠামোগত উদ্যোগ জরুরি। এ জন্য রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সুবিধার সময়সীমা বাড়ানো, লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা টি+২ থেকে টি+১-এ নামিয়ে আনা এবং ডিএসইর বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে সংরক্ষিত এফডিআর ও এসএনডি হিসাবের অর্থ ধাপে ধাপে নগদায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এনআইটিএ হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা, আইপিও ও বন্ড মার্কেটভিত্তিক পুনঃমূলধনীকরণ ব্যবস্থা চালু, সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়ন, সুকুক লেনদেন চালু এবং স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য সিআইবি রিপোর্ট অ্যাক্সেস সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

ডিএসই আশা প্রকাশ করেছে, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, বাজারে তারল্য ও দক্ষতা উন্নত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আর্থিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

এমএএস/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।