হাইকোর্টের তিনবারের নির্দেশেও ছাত্রত্ব ফিরে পাননি সোহেল রানা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ২০ জুলাই ২০১৭

হাইকোর্ট গত দুই বছরে তিনবার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিলেও আজও ছাত্রত্ব ফিরে পাননি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে গণিত বিভাগে ভর্তি হওয়া সোহেল রানা। ছেলের ছাত্রত্ব ফিরে পাবে এই আশায় পেনশনের শেষ টাকাটাও খরচ করে নিঃস্ব হতে বসেছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক বাবা আব্দুল কাদের।

ছেলের উচ্চশিক্ষায় বিভোর ছিলেন পীরগঞ্জের বালুয়া গার্লস স্কুলের শিক্ষক বাবা আব্দুল কাদের। সে আশায় ভর্তিও করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বপ্ন ছিল শেষ জীবনে ছেলেই সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু সাবেক উপাচার্য একগুয়েমিতায় সে স্বপ্ন হারিয়ে আজ নিঃস্ব হতে বসেছেন তিনি। তবুও হাল ছাড়েননি। ছেলে কবে ছাত্রত্ব ফিরে পাবে সে আশায় জীবনের শেষ দিন গুনছেন তিনি। তবে তার ছেলের পুনঃভর্তি করা হবে বর্তমান উপাচার্যের এমন আশ্বাসে আশার আলো দেখছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহেল রানা। এরপর কোমরে অস্ত্রোপচার করার কারণে প্রায় দুই বছর তিনি ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও গত বছরের এপ্রিল মাসে তার শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোহেল রানা হাইকোর্টে রিট করেন। এতে ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের স্থগিত করে রাখা ফলাফল প্রকাশ এবং তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারে ভর্তি করে নিয়ে তাকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ প্রদান কেন করা হবে না এই মর্মে, বেরোবি উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতরসহ ছয়জনের ওপর নিশি রুল জারি করেন আদালত।

আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়িত না করায় গত বছরের ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে সোহেল রানার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়াসহ লেখাপড়ার সুযোগ দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করে সোহেল রানাকে একক সিদ্ধান্তে বিভিন্নভাবে ঘোরাতে থাকেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী।

সর্বশেষ গত বছরের ২৯ মার্চ কোনো কারণ ছাড়াই ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তিগ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন আদালত। ওই বছরের ২০ এপ্রিল আদালতের সর্বশেষ আদেশের কপিসহ আবেদনপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দফতরে জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে তা গ্রহণ করিয়ে নেন সোহেল।

bru

ওই দিন এবং তারপরের দিন ২১ এপ্রিল সোহেল রানাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে আটকিয়ে রাখে। সেখানে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়। বলা হয়, হাইকোর্টে দাখিল করা রিট পিটিশন তুলে না নেয়া হলে তাকে লেখাপড়ার করার সুযোগ দেয়া হবে না। ভর্তিও করা হবে না। তাদের কথা না শুনলে সে কোনোদিন পাস করতে পারবে না। ওই শিক্ষার্থীকে পাস করতেও দেয়া হবে না বলেও হুমকি প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।

এদিকে, গত বছরের ২১ এপ্রিল সোহেল রানার পুনঃভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর স্বাক্ষরিত চিঠি প্রদান করা হয়। চিঠি পেয়ে ওই বছরের ২৫ এপ্রিল নির্দেশনা মোতাবেক আবেদন করেন ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু পুনঃভর্তি কার্যক্রম শুরু না করে কেবল হাইকোর্টকে দেখাতেই ওই প্রতারণামূলক চিঠি প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ সোহেল রানার বাবা আব্দুল কাদেরের।

সোহেল রানার শিক্ষক বাবা আব্দুল কাদের জাগো নিউজকে বলেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী পরপর তিনবার হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননা করেছেন। একই সঙ্গে আমার ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের দিয়ে আটকে রেখে হুমকি দিয়ে শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলুষিত করেছেন।

শিক্ষক বাবা আরও বলেন, নতুন উপাচার্য মহোদয় আশা করি বিষয়টিতে সদয় দৃষ্টি দেবেন। আমার ছেলে আবার তার ছাত্রত্ব ফিরে পেয়ে স্বাভাবিক জীবন পাবে।

এ প্রসঙ্গে কথা বললে গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কমলেশ চন্দ্র রায় জাগো নিউজকে বলেন, সোহেল রানার ব্যাপারে ইতোমধ্যে উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার পুনঃভর্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেজিস্ট্রার দফতর প্রেরণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর জাগো নিউজকে বলেন, ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কথা বললে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, হাইকোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী পুনঃভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ নির্দেশ অবমাননা করা মানে হাইকোর্টকে অবমাননা করা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সজীব হোসাইন/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।