শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রাবির জয়জয়কার, ছাত্রদলে অবমূল্যায়ন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬
কেন্দ্রীয় কমিটি পদপ্রত্যাশী রাবি ছাত্রদলের নেতারা

রাজপথে দীর্ঘ দেড় যুগের মামলা-হামলা আর জেল-জুলুম সয়ে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বরাবরই উপেক্ষিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। দীর্ঘদিনের ত্যাগ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে আক্ষেপ। বিশেষ করে, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রাবি শাখার জয়জয়কার থাকলেও ছাত্রদলে এই বিদ্যাপীঠের নেতাদের অনুপস্থিতি এখন ধারাবাহিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে সংগঠনের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর ওপর চরম ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল কর্মীরা।

তবে সম্প্রতি ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ডামাডোলের মধ্যে ক্যাম্পাসজুড়ে আবারও আলোচনায়—এবার কি সেই বঞ্চনার অবসান ঘটবে, নাকি উত্তরবঙ্গের এই রাজনৈতিক দুর্গ আবারও বঞ্চিত হবে পদায়ন থেকে?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিসহ বিভিন্ন কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে কমিটির মেয়াদও। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পদপ্রত্যাশীরা তদবির শুরু করেছেন। দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ; যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।

নতুন কমিটিকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবার কি যথাযথ মূল্যায়ন পাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা, নাকি তারা আবারও পদবঞ্চিত হবেন? রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাবি শাখার অবদান, ত্যাগ ও নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অতীতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রাবির উপস্থিতি

রাবি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসার সবচেয়ে বড় উদাহরণ বিএনপির বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও রাকসুর সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার সময়ে রাবি ছাত্ররাজনীতি যে উচ্চতায় ছিল, তা আজও কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে। এছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাবি ছাত্রদলের সাবেক ৮–৯ জন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া প্রমাণ করে যে, জাতীয় নেতৃত্ব তৈরিতে রাবির অবদান অনস্বীকার্য। ফলে অনেকের মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররাজনীতি জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

অন্যান্য ছাত্রসংগঠনে প্রতিনিধিত্ব

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। অতীতে এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাবি শাখার একাধিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল বলে জানা গেছে।

নির্যাতনের অভিযোগ ও ত্যাগের ইতিহাস

রাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন। এ সময়ে বহু নেতাকর্মী মামলা, গ্রেফতার, বহিষ্কার ও হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এত ত্যাগ ও সাংগঠনিক সক্রিয়তার পরও কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাবি ছাত্রদলের নেতারা যথাযথ মূল্যায়ন পাননি।

রাবি থেকে আলোচনা যারা

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ পেতে আলোচনায় রয়েছেন রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা বলেন, ছাত্রসংগঠনে নেতৃত্বের সুযোগ পাওয়া রাজনীতির বড় প্রেরণা। কিন্তু বারবার উপেক্ষিত হলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, স্বৈরাচার সরকার পতন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনের দায়িত্ব আমাদের ওপর ছিল, যা আমরা পালন করেছি। আমরা দল করি, তাই দলের সিদ্ধান্তই আমাদের কাছে চূড়ান্ত। রাকসু নির্বাচনে গোপন ব্যালটে আমি ভিপি পদপ্রার্থী নির্বাচিত হলেও নির্বাচন সফল করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছি। আমাদের ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ত্যাগ অবশ্যই বিএনপি মূল্যায়ন করবে বলে আশা করি।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা যদি প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে সংগঠনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। রাবি শাখার অবদান ও ত্যাগ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব বাড়লে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছাত্ররাজনীতির আগ্রহ বাড়বে।

মনির হোসেন মাহিন/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।