রাবিতে `ছুঁয়ে দিলে মন` প্রদর্শনী নিয়ে তোলপাড়


প্রকাশিত: ০৫:০৬ এএম, ০৬ জুন ২০১৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আগামী ৭, ৮ ও ৯ জুন সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র `ছুঁয়ে দিলে মন` প্রদর্শন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন ‘রলিক মিডিয়া প্রডাকশন’। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কীভাবে বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র মিলনায়তনে প্রদর্শনের অনুমতি দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এমনকি সমাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও সমলোচনার ঝড় উঠেছে। আয়োজক কমিটির নেতারা বলছেন, এটা বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র ঠিক আছে, তবে এখানে শিক্ষনীয় অনেক দিক আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আগামী ৭, ৮ ও ৯ তারিখে বিকেল ও সন্ধ্যায় শিহাব শাহীন পরিচালিত `ছুঁয়ে দিলে মন` এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে যাচ্ছে রলিক মিডিয়া প্রডাকশন। ইতোপূর্বে যেখানে বিভিন্ন সময় মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাস-ঐতিহ্য বা শিক্ষনীয় স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হয়ে থাকে সেখানে এ ধরনের ছবি প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া মানবিক দিক বিবেচনা করে ফান্ড কালেকশনের জন্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হয়ে থাকে।

তবে এই চলচ্চিত্রটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ধারার। বিগত সময়ে কখনো এমন চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়নি। এদিকে বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র ক্যাম্পাসে প্রদর্শনীর ঘোর বিরোধীতা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনেকে বলছেন মূলত ব্যবসায়িক স্বার্থে তারা এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনী জাগো নিউজকে বলেন, বাণিজ্যিক মুভি ক্যাম্পাসে প্রদর্শন করা উচিত নয়। আর প্রশাসন কীভাবে তাদের এই প্রদর্শনীর অনুমতি দেয়, আমি এটা বুঝি না? এছাড়া রাতের আধারে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করেছে, এটাও ঠিক না।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে, পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো ও প্রতিটি আবাসিক হলের গেটের সামনে অথবা হলের ভেতরে বড় বড় পোস্টার লাগানো হয়েছে। এদিকে হলের ভেতরে এই ধরনের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের পোস্টার দেখে অনেক শিক্ষার্থীকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আসাদুল হক নামে এক শিক্ষার্থী লেখেন, রাতে শহীদ  সোহরাওয়ার্দী হলে ঢুকতেই চোখে পড়ল গেইটের ডান দিকে বিশাল পোস্টার লাগানো। দেখেতো  চোখে ছানি পড়া অবস্থা। একটা ছবির পোস্টার লাগানো। পাশে আরও কয়েকটি পোস্টার রয়েছে। ছবির নাম  `ছুয়ে দিলে মন`।

গেইটে দায়িত্বে থাকা রঞ্জু ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম কী অবস্থা তিনি কোনো কিছুই বলতে পারলেন না। অন্য হলগুলোতে একই অবস্থা কিনা জানি না। তবে এই ধরনের কাজ নেহায়েত সমর্থনযোগ্য যেমন নয় তেমনি ঘৃণারও বিষয়। পোস্টার লাগাবেন ভাল কথা শেষ পর্যন্ত হলের গেইটে! আবার শুনলাম কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে নাকি ওই ছবি দেখানো হবে। এটা কোন ধরণের ফাজলামি। হ্যাঁ আমরাও মিলনায়তনে ছবি দেখেছি আর তা ছিল শিক্ষামূলক অথবা ইতিহাস ভিত্তিক ছবি বা ডকুমেন্টারি। এতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু এভাবে বাণিজ্যিক ছবি প্রদর্শন করতে হবে কেন ?

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন মাতিন জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কোনভাবেই কাম্য নয়। এটা সুস্থ ধারার সাংস্কৃতির জন্য হুমকি স্বরূপ। তবে কে বা কারা প্রদর্শনীর অনুমতি দিয়েছে এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

এ ব্যাপারে টিএসসির পরিচালক টি এম এম নূরুল মোদ্দাসের চৌধুরী বলেন, তারা এক শিক্ষকের সুপারিশ নিয়ে এসেছিলেন, যার কারণে আমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের অনুমোদন দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে, আগামীতে মিলনায়তন বরাদ্দের ব্যাপারে নীতিমালা করা হবে।

রলিক মিডিয়ার পরিচালক এম কবির জাগো নিউজক বলেন, এটা বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র ঠিক আছে, তবে এই চলচ্চিত্রের কথাপোকথন থেকে শুরু করে সবকিছুর মধ্যে শেখার অনেক কিছু আছে। এছাড়া এই মুভির সঙ্গে জড়িত কলা-কুশলীরাও এখানে আসবেন।

শাহরিয়ার অনতু/এমজেড/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।