খামারিদের খরচ বাঁচাবে বাকৃবির এআই সফটওয়্যার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ১৬ মে ২০২৬

প্রাণিখাদ্যের উৎপাদন খরচ কমিয়ে খামারিদের লাভ বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সফ্টওয়্যার উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। ‘বিএইউ-এফএস’ নামের এই সফ্টওয়্যারটি পোলট্রি, গবাদিপশু ও মাছের সাশ্রয়ী সুষম খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করবে।

জানা গেছে, ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ভ্যালিডেশন অব সফ্টওয়্যার অ্যাসিস্টেড লাইভস্টক অ্যান্ড পোলট্রি ফিডিং ফর প্রোডাক্টিভিটি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এবং লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) অর্থায়নে এই সফ্টওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। গবেষণার প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করছেন বাকৃবির পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. শহিদুর রহমান।

গবেষকদের মতে, দেশের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস হলো পোলট্রি খাত। বর্তমানে দেশে মাথাপিছু দৈনিক প্রায় ১৩৬ গ্রাম মাংস এবং বছরে ১৩৬টি ডিম উৎপাদিত হলেও মোট উৎপাদন ব্যয়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। খাদ্যের পুষ্টিমান নির্ধারণে ভুল হলে উৎপাদন ব্যয় যেমন বেড়ে যায়, তেমনি উৎপাদনশীলতাও কমে যায়।

তারা বলছেন, এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে খামারিরা বিভিন্ন উপাদানের পুষ্টিমান ও মূল্য তুলনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা নিজেরাই মানসম্মত খাদ্য প্রস্তুত করতে পারবেন এবং খাদ্য ব্যয় কমিয়ে লাভজনকভাবে খামার পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।

খামারিদের খরচ বাঁচাবে বাকৃবির এআই সফটওয়্যার

গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণে অধ্যাপক শহিদুর রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফিড মিল এখনো প্রচলিত অভিজ্ঞতা, বইভিত্তিক তথ্য কিংবা খাদ্যোপাদানের রং ও গন্ধ দেখে খাদ্য প্রস্তুত করে। অথচ একই ধরনের উপাদান—যেমন ভুট্টা, রাইস পলিশ, সয়াবিন মিল বা গমের ভুসি—উৎস, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ভিন্নতার কারণে পুষ্টিমানে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যে পুষ্টির ঘাটতি বা অতিরিক্ততা তৈরি হয়ে উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা কমে যায়।

তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে গবেষণার অংশ হিসেবে প্রায় ২৫০ ধরনের পোলট্রি খাদ্যোপাদানের ছবি, পুষ্টিমান ও ভৌত বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি ডিজিটাল পিক্টোরিয়াল ফিড লাইব্রেরি তৈরি করা হচ্ছে। এতে খাদ্যের রং, আকার, গঠন ও মানসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত থাকবে, যা খামারি ও ফিড প্রস্তুতকারীদের মানসম্মত খাদ্যোপাদান শনাক্তে সহায়তা করবে।

প্রাথমিকভাবে সফ্টওয়্যারটি বিনামূল্যে চালুর পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক শহিদুর রহমান বলেন, পরবর্তীতে এটি সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক মডেলে পরিচালনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাইয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

গবেষকরা জানান, আধুনিক এআই, মেশিন লার্নিং ও ইমেজ প্রসেসিং প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্যোপাদানের ছবি বিশ্লেষণ করে পুষ্টিমান অনুমানের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারদর, পুষ্টিচাহিদা ও খাদ্যের গুণগত মান বিবেচনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাশ্রয়ী খাদ্য ফর্মুলা তৈরির জন্য একটি ব্যবহারবান্ধব সফ্টওয়্যার উন্নয়ন করা হচ্ছে।

কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।