জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: ৭২ ঘণ্টায়ও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পার হলেও মূল অভিযুক্তকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা দায়েরের এত সময় পরও আসামি ধরা না পড়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। একই সঙ্গে পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
জানা গেছে, গত ১২ মে রাত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় ধর্ষণচেষ্টা ঘটনা ঘটে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। এই ঘটনার পরের ১৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে দ্রুত ধরে আইনের আওতায় আনতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারা অভিযুক্তকে ধরতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। যার সময় শেষ হলে প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন একদল আন্দোলনকারীরা। এছাড়া ১৭ মে থেকে প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন।
তদন্তে বিলম্ব হওয়াতে ক্ষোভ করে জাবি ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী সিহাহ আহমেদ বলেন, ঘটনার আজ ৪ দিন হলেও এখনো অভিযুক্তকে ধরা হয়নি। পুলিশের থেকে কোনো আপডেটও দেওয়া হচ্ছে না। আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি, বিচার চাচ্ছি কিন্তু যারা বিচার করবে তাদের থেকেই যেনো কোনো সহায়তা আসছে না। ছবি থাকার পরও অভিযুক্তকে ধরতে না পারা স্পষ্ট পুলিশের গাফিলতি।
আরেক নারী শিক্ষার্থী নুসরাত আহসান অর্নী বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, আসামিকে ধরতে না পারলে প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু যেসব লোক তদন্ত কাজে আছে তাদের থেকে কোনো বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে না। কেন তাদের কাজে বিলম্ব হচ্ছে, কেন এখনো তারা অভিযুক্তকে ধরতে পারছে না সেই বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই। নিরাপত্তা বাহিনী যদি তাদের কাজ না করে তা হলে প্রক্টর কী করবে।
তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে এআই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় তদন্ত কাজে বিলম্ব হচ্ছে কি না তাও খতিয়ে দেখা দরকার। এ বিষয়ে কারা জড়িত এবং অভিযুক্তকে ধরতে না পারায় কেন পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যর্থ হচ্ছে সে বিষয়ে তাদের জবাবদিহির মধ্যে আনা দরকার।
অভিযুক্তকে গ্রেফতারের বিষয়ে আশুলিয়া থানার (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তের কোনো আইডেন্টিটি এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তার ক্যাম্পাসে ৪ ঘণ্টার অবস্থান চিহ্নিত করা গেছে। কিন্তু বাহির হওয়ার কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে কোনো ফোন ব্যবহার করেনি। যার জন্য তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি আমরা আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও চেক করছি। দ্রুত তদন্ত কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।
এআই জেনেরেটেড ছবি নিয়ে তিনি বলেন, কোথায় কোন ছবি আছে, আমরা তা দেখছি না। আমরা আমাদের কাছে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েই তদন্ত করছি।
মো. রকিব হাসান প্রান্ত/এনএইচআর