শোকে স্তব্ধ কুয়েট
এ শোক মেনে নেয়ার কোনো ভাষা নেই, মানিয়ে নেয়ার কোনো যুক্তি নেই। শোকে স্তব্ধ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চার শিক্ষার্থীই তাদের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
২৫ মার্চ রোববার রাত একটায় ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। কুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষবর্ষের ওই চার শিক্ষার্থী স্কয়ার গ্রুপের একটি টেক্সটাইল মিলে এক মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এটাচমেন্টের (ইন্টার্নি) জন্য ময়মনসিংহের ভালুকার মাস্টার বাড়ি এলাকার ওই বাসায় ওঠে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মো. তৌহিদুল ইসলাম। পরে গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মার্চ রাতে মো. শাহীন মিয়া, ২৯ মার্চ মো. হাফিজুর রহমান এবং আজ ৩০ মার্চ সকালে দিপ্ত সরকারের মৃত্যু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চার মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীরসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। এক শোক বিবৃতিতে কুয়েট ভাইস-চ্যান্সেলর শিক্ষার্থীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
খবর শোনার পরই ২৫ মার্চ আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। ঢাকায় অবস্থানরত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এতদিন হাসপাতালে অবস্থান করে চিকিৎসায় সবধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করেন। কিন্তু সব চেষ্টা বিফল করে সকলকে চোখের জলে ভাসিয়ে চির বিদায় নিলো কুয়েটের মেধাবী চার শিক্ষার্থী।
এদিকে কেন এই ঘটনা ঘটেছে সঠিকভাবে এখনও উৎঘাটিত হয়নি। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে আইনগত সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, বিসিএসআইআরের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমন্বয়ে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
আলমগীর হান্নান/এফএ/এমএস