রাবি থেকে ১০ মণ আম পেড়ে নিয়ে গেল ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৭:২৬ পিএম, ০৮ জুন ২০১৮

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) টেন্ডার হওয়া বাগান থেকে রাতের আঁধারে আম লুট করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রায় ১০ মণ আম লুট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শহীদুল্লাহ কলা ভবন, মমতাজউদ্দিন কলা ভবন ও প্রশাসন ভবন এলাকার তিনটি আম বাগান প্রক্রিয়া অবলম্বন করে টেন্ডার নিয়েছিলেন রাশেদ খান নামে এক ব্যবসায়ী। যার মূল্য ছিল ৩০ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে ছাত্রলীগের প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মী ভাগ ভাগ হয়ে গাছগুলো থেকে আম পেড়ে নিয়ে গেছে। দায়িত্বরত গার্ড তাদের আম পাড়তে নিষেধ করলেও তারা শোনেনি।

বাগানের ঠিকাদার রাশেদ খান বিপু জানান, সেহরির পর গার্ডের মাধ্যেমে জানতে পারি একদল লোক গাছ থেকে আম পাড়ছে। বাগানে উপস্থিত হয়ে দেখি আম পাড়া শেষ করে প্রায় ২৫ জন বস্তায় আম ঢুকাচ্ছে। তাদের নিষেধ করলে তারা আবারও আম পাড়তে থাকেন এবং নিজেদের ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দেন। তাদের মধ্যে কেউ সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সহ সম্পাদক পরিচয় দেন। তাদের সঙ্গে কয়েকজন মেয়েও ছিল। বাগানের যেসব ভালো আম বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া সবগুলোই পেড়ে নিয়ে গেছে তারা।

তিনি আরও জানান, বাগানগুলো টেন্ডার নেয়ার পর ছাত্রলীগের কয়েকজন কয়েকবার প্রকাশ্যে আম পাড়তে এসেছিল। তাদেরকে নিষেধ করায় তারা বলেছিল- আম বিক্রি করার পর যে টাকা লাভ হবে তার কিছু অংশ যেন তাদেরকে দেই। গত বুধবার তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মিটিং হয়েছিল। লাভ হলে কিছু দিতে চেয়েছিলাম। এখন লাভ তো দূরের কথা মূল টাকাও পাওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ক্যাম্পাসের বাগানগুলো লিজ দেয়ার কারণে নেতাকর্মীদের আম পাড়তে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও কে রাতে গাছ থেকে আম পেড়েছে তা আমার জানা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, আম পাড়ার বিষয়টি শুনেছি। এই বাগানগুলো কৃষি প্রকল্পের আওতায়। এ বিষয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে কৃষি প্রকল্পের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য ও কৃষি প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা জানান, বিষয়টি শুনেছি। প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার কথা প্রক্টরকে বলেছি। তিনি ব্যবস্থা না নিলে পরে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/আরএআর/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :