কোয়ার্টার ছাড়ছেন না জাবি কর্মকর্তার সাবেক স্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একটি আবাসিক কোয়ার্টার এক বছর ৮ মাস ধরে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার সাবেক স্ত্রী। ফলে ওই বাসা থেকে কোনো ভাড়া পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এস্টেট অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই আবাসিক কোয়ার্টার ডি-২৩ এ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (এস্টেট) মো. আজীম উদ্দিনের সাবেক স্ত্রী কাজী সেলিনা ১ বছর ৮ মাস ধরে বসবাস করে আসছেন। সহকারী রেজিস্ট্রার আজিম উদ্দিনের বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা বাসা ভাড়া পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই হিসেবে ২০ মাসে প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া পায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এস্টেট অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০১তম সিন্ডিকেট সভায় ওই বাসাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই হলের একজন হাউস টিউটর বাসায় উঠতে চেয়েও উঠতে পারেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (এস্টেট) মো. আজীম উদ্দিন জানান, তিনি তার স্ত্রীকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তালাক দেন। তালাক দেয়ার পর একবছর তার বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া কেটে নেয়া হত। পরে এস্টেট অফিসে এক নোটিশের মাধ্যমে তিনি ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ওই বাসা ছেড়ে দেন।

তিনি আরও জানান, ওই বাসায় থাকার কারণে ডিভোর্সের পরও তিনি সাবেক স্ত্রীর দ্বারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার অফিস সূত্রে জানা যায়, মূল বেতনের অর্ধেক টাকা বাসা বাড়া হিসেবে বেতন থেকে কেটে রাখা হয়। যেহেতু আজীম উদ্দিন বাসা ছেড়ে দিয়েছেন তাই তার বেতন থেকে কোনো টাকা কাটা হচ্ছে না।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার বাড়ি ভাড়া ছাড়াই কাজী সেলিনা ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাকে একাধিকবার নোটিশ দেয়া হলেও তিনি বাড়ি ছাড়েননি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস সূত্রে জানা যায়।

এ বিষয়ে কাজী সেলিনা বলেন, আমাকে অনেকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে সত্যি কিন্তু আমি আমার দুই ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাব। আমি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আজিমের বাসা হিসেবে এখানে আছি। সে আমাকে তালাক দিয়েছে কিন্তু আমার জন্য কোনো ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেনি। এখন যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে বের করে দেয় তাহলে আমার সব মালামাল বাসার সামনে রেখে আমাকে বের দিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, সম্প্রতি আমরা তাকে সাত দিনের সময় দিয়েছি বাসা ছাড়ার জন্য। যদি সে সাত দিনের মধ্যে বাসা না ছাড়ে তাহলে আমরা পুলিশের সহায়তা নেব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, সে জবরদস্তি করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাসাটি দখল করে রেখেছে। সে মনে করছে একজন নারী বলে সে ছাড় পেয়ে যাবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে সে এ রকম নিয়মবহির্ভূত কাজ করে ছাড় পেতে পারে না। তাকে বাসা থেকে উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

হাফিজুর রহমান/আরএআর/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :