ইবি প্রক্টরের গাড়িচালকের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ফাঁস

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ১১:৫৮ এএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৮

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের গাড়িচালকের ইয়াবা সেবনের দুইটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। অধ্যাপক মাহবুবর রহমানকে সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে দেখা গেলেও তারই গাড়িচালকের ইয়াবা সেবনে ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনা চলছে।

ওই গাড়ি চালকের নাম মো. প্রল্লাদ শেখ। তিনি দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ির চালকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ফাঁস হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রল্লাদ সাদা স্যান্ডোগেঞ্জি গায়ে একটি সিঁড়ির ওপর বসে ইয়াবা সেবন করছেন। তাকে ইয়াবা সেবনে সহযোগিতা করছেন অন্য একজন। তিনি পেছন ফিরে বসে থাকায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এছাড়া আরও একজন ইয়াবা সেবনের দৃশ্য তার মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। তিনি নিজেকে মিলন বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ইয়াবা সেবনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চেয়ারের সহয়ায়তা নিয়েছেন। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে ইয়াবা সেবনের স্থান ক্যাম্পাসেরই কোনো একটি ভবনের সিঁড়ি।

এ সময় ক্যামেরার পেছন থেকে নিজেকে মিলন পরিচয় দানকারী এক ব্যক্তির কথোপকথোনে জানা যায়, সেখানে তারা প্রায়ই মাদকের আসর জমান। এবার প্রল্লাদ সেখানে ২০ দিন পর গেছেন। প্রল্লাদকে ওই ব্যক্তির বছরে দুই একদিন মাদক গ্রহণের পরামর্শ দিতেও দেখা গেছে। এ সময় মিলন তাদের এভাবে প্রতিনিয়ত আসতে নিষেধ করেন। এখানে প্রশাসন বড় তালা দিয়ে রাখে বলেও জানান মিলন। মাদক সেবনের পাশাপাশি জুয়া খেলার কথাও উঠে আসে তাদের কথোপকথনে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রল্লাদ আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত মঙ্গলবার তিন বছরের অধিক সময় পর প্রক্টর পদে পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মাহবুবর রহমানের পরিবর্তে নতুন প্রক্টর করা হয় অধ্যাপক ইব্রাহিম আব্দুল্লাহ সিজারকে। অধ্যাপক মাহবুবরের প্রক্টর থেকে দায়িত্ব শেষ করার দুই দিন পরই তার চালকের বিরুদ্ধে এমন তথ্য বেরিয়ে আসে।

এ বিষয়ে প্রক্টরের গাড়িচালক অভিযুক্ত প্রল্লাদ বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’

ভিডিওর কথা বললে তিনি বলেন,‘ভাই কেউ আমাকে ফাঁসাতে এমন করতে পারে। তবে এ কাজ কখনো করেছি বলে মনে করতে পারছি না।’

উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর-রশিদ আসকারী বলেন, আমি সবসময়ই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। বিষয়টি অভিযোগ আকারে পেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।