সিবগাতুল্লাহ

শহীদদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই ছাত্রশিবির কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে এগিয়ে যাচ্ছে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ০৬:৫৯ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬

শহীদদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল ৩টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে ইসলামী ছাত্রশিবির রাবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। রাবির ছাত্রশিবিরের শহীদ দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় সিবগাতুল্লাহ বলেন, ১১ মার্চ ইসলামী ছাত্রশিবির ঘোষিত শহীদ দিবস। প্রতি বছর এ দিনটি পালন করে আসছে ইসলামী ছাত্রশিবির। ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার চত্বরে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত নবাগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছাত্রমৈত্রী, জাসদ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত এবং নিষ্ঠুর হামলায় শাহাদতবরণ করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী সাব্বির, হামিদ, আইয়ুব ও জাব্বার।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সাব্বিরই ছিলেন ছাত্রশিবিরের ১ম শহীদ। সেদিন লোহার রড, পাইপগান, দা, কিরিচ দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় সাব্বিরকে, ইটের ওপর মাথা রেখে আরেকটি ইট দিয়ে চূর্ণ-বিচুর্ণ করে মাথা থেকে আবদুল হামিদের মগজ বের করা হয়। মারাত্মক আহত আবদুল জাব্বার এবং আইয়ুব পরবর্তীতে শাহাদতবরণ করেন। ১১ মার্চ ১৯৮২ সালের সেই দিনে আহতদের গগনবিদারী চিৎকারে শিক্ষানগরী খ্যাত রাজশাহীর আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়েছিল। সারাদেশের মানুষ ধিক্কার জানিয়েছিল প্রগতিশীল দাবিদার মানুষ নামক রক্তচোষা দানবদের।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের সেই শাহাদতের পর থেকেই ছাত্রশিবিরকে শেষ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন ও হামলা করা হয়েছে। একে একে ১৭ জন শিবির নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাহাদতের সেই সিঁড়ি বেয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির তার মঞ্জিলে মকসুদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের এই আলোচনা সভা থেকে আমরা ১১ মার্চ ছাত্রশিবিরের ওপর হামলার নেতৃত্বে দানকারী বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি ফজলে হাসান বাদশাসহ জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাই।

অনুষ্ঠানে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল হাসেম, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মো. জাহাঙ্গীর, শহীদ সাব্বির হোসেনের ভাই মো. আকরাম, রাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ মো. নুরুজ্জামান এবং রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ডা. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মনির হোসেন মাহিন/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।