ঢাবিতে শিক্ষার পরিবেশে ক্রমাগত অবনতি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৯ এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার পরিবেশ ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। শুধু ঢাবি নয়, সার্বিকভাবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ যে ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে সেটি নিয়ে অনেকে ইতোমধ্যে নানাভাবে উদ্বেগও প্রকাশ করেছন।

বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা প্রতিষ্ঠান টাইমস হায়ার এডুকেশন থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

লন্ডন-ভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন ২০২০ সালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে র‌্যাংকিং করেছে সেখানে দেখা গেছে গত চার বছরে ঢাবির শিক্ষার মান ক্রমাগত অবনতির দিকেই যাচ্ছে।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং-এর (শিক্ষার পরিবেশ) ক্ষেত্রে ২১.৭ স্কোর করেছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে সে স্কোর কমে হয়েছে ২০.৪। এবার সেটির সবচেয়ে বড় অবনতি হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং-এর ক্ষেত্রে ১৬ স্কোর করেছে।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ বলতে অনেকগুলো সূচক থাকে। যেমন- শ্রেণি কক্ষের আকার, শ্রেণি কক্ষের ধরন, শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের আসন বিন্যাস ইত্যাদি। এসব মানদণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে আছে।

তবে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান দাবি করেন, ঢাবিতে ‘টিচিং কোয়ালিটি’ নিম্নগামী হবে না, বরং উর্ধ্বমুখী। আমাদের শিক্ষকরা এখন বিশ্বের সেরা-সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি আনছেন। সেজন্য টিচিং কোয়ালিটি নিম্নগামী হবার বিষয়টির সঙ্গে একমত হওয়ার কারণ নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে সবসময় যোগ্য ব্যক্তিরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে কিনা সেটি নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক এবং পারিবারিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেবার অভিযোগ ঢাবির ক্ষেত্রেও ঘটেছে।

তবে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান এ ধরনের অভিযোগ মানতে নারাজ।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগে সম্প্রতি একেবারেই অভিযোগ নেই। সুষ্ঠুভাবে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান মনে করেন, এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে দেশে সার্বিক শিক্ষার মান এই অঞ্চলে অন্য দেশগুলোর তুলনায় যে ভালো অবস্থায় আছে একথা বলা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য বরাদ্দ টাকা ঠিকমতো খরচও করে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী করা হয় না এবং সেটি করার প্রয়োজনও বোধ করে না। এটা না করলে শিক্ষা বিশ্বমানের হওয়ার কথা তো বাদই দিলাম, এ অঞ্চলের অন্য দেশের তুলনায় আমরা খুব বেশি দূরে যেতে পারবো না।

এএইচ/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]