শাবিপ্রবি
শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ১৭ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এক প্রভাষকের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ১৭ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা জানান। এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ বাতিল চাওয়া শিক্ষকের নাম তাজবিউল ইসলাম। তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-শিবপুর থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। সেখানে স্নাতকে তার সিজিপিএ ৭.৩৫। কিন্তু স্নাতকের সিজিপিএ ৭.৩৫-কে বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতি সিজিপিএ ৪-এ রূপান্তর করলে তা ৩.২১ হয়।
২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে সর্বনিম্ন ৩.৫০ সিজিপিএ চাওয়া হয়। কিন্তু তাজবিউল ইসলামের আবেদনের যোগ্যতা না থাকলেও তাকে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড দেওয়া হয়। তিনি ওই বছরের জুনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তিনি ক্লাসে পাঠদানে অংশ নিতে পারেননি। তবে শিক্ষক হিসেবে বেতন-ভাতা পেয়ে যাচ্ছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাজবিউলের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে একাধিকবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন আন্দোলন করেছেন তারা। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এই সংকট সমাধানের আশ্বাস দিলেও তার নিয়োগ বাতিল হয়নি।
পিএমই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহয়ী শারদ বলেন, আবেদনের জন্যই অযোগ্য এমন এক ব্যক্তিকে আমাদের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার বিরুদ্ধে আমরা বিভাগের সবাই সরাসরি প্রতিবাদ জানাই। ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়াসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত আমরা কেবল কিছু সাময়িক আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু এই অবৈধ নিয়োগের কোনো সুরাহা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টির সমাধান না হওয়া আমাদের জন্য হতাশার এবং চরম লজ্জাজনক। ওই শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছি। পরবর্তী কার্যদিবস অর্থাৎ, রোববারও যদি আমরা এই সমস্যার সঠিক সমাধান না পাই তাহলে বিভাগের সবাই সম্মিলিতভাবে কঠোরতর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবো।
জানতে চাইলে বিভাগটির প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, তাজবিউলের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঝুলিয়ে রাখছিল। আইন উপদেষ্টার কাছে মতামতের জন্য পাঠিয়ে আমাদের বলা হয় তিনি মতামত দিয়েছেন, তবে পরে বুঝতে পারলাম মতামত দেননি। সিন্ডিকেট সভায়ও তার বেতন-ভাতা (শিক্ষার্থীদের প্রথম শর্ত) স্থগিত করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তাজবিউল ভেবেছিল নির্বাচনের আগের সিন্ডিকেটে তাকে টারমিনেট করা হবে। বিষয়টি ভেবে সে হাইকোর্টে রিট করে, রিটের ফলে বিষয়টি ঝুলে আছে। রিটের পরে তাজবিউল বিভাগে আসে ও রিটের কপি দেখায়, তার বিভাগে আসার পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যান। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস পরীক্ষায় ফিরবেন না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রিট খারিজ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিএমই বিভাগীয় প্রধানের পছন্দ মতো উকিল দিয়েই এটা করা হচ্ছে।
এসএইচ জাহিদ/এএমএ/এএসএম