সংস্কৃতি চর্চায় পিছিয়ে হাবিপ্রবি, ২০ বছরেও হয়নি মুক্তমঞ্চ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ইট-কাঠ-বালি-সিমেন্টে তৈরি একটি বিদ্যার্জনের জায়গা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় আদান-প্রদান, ভাব বিনিময়, একে অপরের থেকে শেখা অথবা শিখিয়ে দেয়ার পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার উর্বর ভূমি। তবে প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এ ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)।

অনেকেই মনে করেন, একটি মুক্তমঞ্চ বা সাংস্কৃতিক চর্চার সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্ম না থাকাই সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা পিছিয়ে পড়ার প্রধান ও একমাত্র কারণ। দেশের ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখতে মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠা এখানকার শিক্ষার্থীদের সময়ের দাবি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে সেজুতি সাংস্কৃতিক ঐক্য, অর্ক সাংস্কৃতিক জোট, হাবিপ্রবি ফিল্ম ক্লাব, এইচএসটিইউ ব্যাক বেঞ্চারস, টার্বো ক্রেটার, এইচএসটিইউ আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার অ্যাসোসিয়েশনসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুনসহ বিভিন্ন দিবসে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্লিম ফেস্ট, কনসার্ট আয়োজন করতে দেখা যায় তাদের।

তারা জানায়, পশ্চিমা সংস্কৃতি ও অনলাইন জগতকে যখন নিতান্ত আপন করতে ব্যস্ত সবাই তখনও তারা বাঙালি সংস্কৃতি সবার মাঝে তুলে ধরার মাধ্যমে আনন্দঘন কিছু সময় উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর। কিন্তু ছোটখাটো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে গেলেও তাদের অনেক বেগ পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করে তারা। যেখানে একটি মঞ্চ তৈরি করতেই ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করাটা আর্থিকভাবে অনেকটা ভাবায়। ফলে তাদেরই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে না তারা। তাই একটি মুক্তমঞ্চ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে সেজুতি সাংস্কৃতিক ঐক্য'র সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদ বলেন, আমাদের সংগঠনগুলো অলাভজনক হওয়ায় আমাদের বড় কোনো অনুষ্ঠানের আর্থিক সাহায্যের জন্য প্রসাশনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, একটি মুক্তমঞ্চ এর প্রতিকার হতে পারে।

এ বিষয়ে টার্বোক্রেটারের ব্যান্ড লিডার শাহরিয়ার আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, বাঁশের একটি মঞ্চ তৈরি করতে গেলেও ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বিভিন্ন সময় এসব মঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালীন দুর্ঘটনা ঘটে আহত হওয়ায় খবরও আমরা শুনতে পাই। অন্যদিকে স্থায়ীভাবে একটা মুক্তমঞ্চ করা হলে মঞ্চ তৈরির ব্যয় যেমন কমে যাবে, তেমনি দুর্ঘটনাও অনেকাংশে কমে আসবে।

সংগঠনগুলোর নির্দিষ্ট অফিস কক্ষ কিংবা রিহার্সাল করার মতো জায়গা নেই বলে অভিযোগ করে তারা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম নির্ভর হতে হয় তাদের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়াম থাকলেও সপ্তাহের প্রায় দিনই সেগুলোতে আলোচনা সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, বিদায় অনুষ্ঠানের মত বিভিন্ন অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। ফলে রিহার্সাল করা হয়ে উঠে না তাদের।

তারা জানায়, অডিটোরিয়াম রিকুইজিশন না পাওয়ায় টিএসসি ভবনের সামনেও অনুষ্ঠান করতে হয়েছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ক সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জাবির আল শামীম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা জানি মুক্তমঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক দর্পন হিসেবে কাজ করে। মুক্তমঞ্চ স্থাপন অডিটোরিয়ামের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

এইচএসটিইউ ব্যাক বেঞ্চারস এর সাধারণ সম্পাদক ইমরুল ইসলাম মুক্তমঞ্চের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, মুক্তমঞ্চ মত প্রকাশের উন্মুক্ত স্থান চার দেয়ালের গন্ডির বাইরে খোলা আকাশের নিচে একটি প্লাটফর্ম রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক চর্চাসহ বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো অনুষ্ঠানগুলো করতে পারবে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ বলেন, শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে আবেদন করলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো। আমিও চাই একটি মুক্তমঞ্চ হোক যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের মুক্তচর্চার সুযোগ পাবে।

এমএএস/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com