জবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় রবিউল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জবি
প্রকাশিত: ০৩:৪০ পিএম, ১৩ মার্চ ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আউয়াল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে সংগঠনের ভেতর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও তৎপরতা। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের তালিকায় আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আউয়াল এর নাম।

‎দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের অন্যতম প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকেই আপসহীন ভূমিকা রাখার কারণে ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন রবিউল। তার বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানা এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় দুটি মামলা রয়েছে। পল্টন মডেল থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি ৭ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯২ দিন হরতাল-অবরোধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এছাড়া ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের দিন পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্রনেতা এবং ক্লিন ইমেজের সংগঠক হিসেবে পরিচিত মো. রবিউল আউয়াল। শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের মতে, রবিউলের মতো ক্লিন ইমেজের নেতা বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রয়োজন। তাকে শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে।

জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য হাবিবুল্লাহ সৌরভ বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান যোগ্য নেতৃত্বকেই সামনে আনবেন বলে আমরা আশাবাদী। যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের মধ্যে রবিউল অন্যতম। যোগ্য ব্যক্তি নেতৃত্বে এলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল আউয়াল বলেন, আমি সবসময় ছাত্রদলের নিয়মনীতি এবং সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি। যদি সংগঠন আমাকে শীর্ষ দায়িত্ব দেয়, আমি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, অধিকার এবং ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য সম্ভাব্য সব প্রচেষ্টা করবো। আমি চাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এমন একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত এবং স্বচ্ছ নেতৃত্বের অধীনে কাজ করুক, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন,আমার লক্ষ্য শুধু নেতৃত্ব পাওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জীবনমানের উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। আমরা ছাত্রদের মধ্যে একটি শক্তিশালী একতা তৈরি করবো, যেন কোনো শিক্ষার্থী নিজেকে অবহেলিত বা অনাচারমূলক পরিস্থিতিতে না পায়। এছাড়া, আমি সবসময় ছাত্ররাজনীতিকে শান্তিপূর্ণ, নৈতিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব রাখার চেষ্টা করবো।

জবির এই ছাত্রনেতা বলেন, সংগঠন যদি আমাকে সুযোগ দেয়, আমি সবাইকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা নেবো, যার মধ্যে থাকবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষা, শিক্ষামূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার সুরক্ষা। আমি বিশ্বাস করি, দায়িত্বপূর্ণ ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী, সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।

টিএইচকিউ/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।