২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে ২০১৯ সালের পরীক্ষা নিল ইবির ইংরেজি বিভাগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের কোর্স ফাইনাল পরীক্ষায় একই প্রশ্নপত্রে পরপর দুই শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালের তৃতীয় বর্ষের কোর্স ফাইনাল পরীক্ষা ২০১৮ সালের একই প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এতে করে ওই কোর্সে ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করে ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী জাগো নিউজের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, স্বাভাবিকভাবে আগের বছরের প্রশ্ন বাদ দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া হয়। সেখানে আগের বছরের প্রশ্ন তুলে দেয়ায় পাশ করা নিয়ে টেনশনে রয়েছি। স্যারদের অবহেলা আর আলসেমিতেই এমন হয়েছে। এখন এর দায়ভার কে নেবে?’

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ৩০৫ নং কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কোর্সের শিরোনাম- ‘এলিজাবেদিয়ান অ্যান্ড জেকোবিয়ান ড্রামা’। পরীক্ষায় ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রশ্নপত্রের ৪টি প্রশ্ন বাদে সবগুলো প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। ৮০ নম্বরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ৫ সেটে দশটি প্রশ্ন থাকে। শিক্ষার্থীকে প্রতি সেট থেকে যেকোনো একটি করে উত্তর দিতে হয়। এছাড়া ৬ নং সেটে আরও ৮টি ছোট প্রশ্ন থাকে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ১৮ প্রশ্নের সঙ্গে ২০১৯ সালের ১৪টি প্রশ্ন হুবহু মিল পাওয়া যায়।

ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নের সঙ্গে পরবর্তী বছরের প্রশ্নে কোনোভাবেই ২০ শতাংশের বেশি প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। এখন নতুন কোনো নিয়ম হলেও তা আমার জানা নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য একটি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, ‘সাধারণত একই প্রশ্নে ঠিক পরের বছরই পরীক্ষা নেয়ার রীতি নেই। দু-একটি প্রশ্ন রিপিট হতে পারে কিন্তু হুবহু একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া পরীক্ষা কমিটির অবহেলা ছাড়া কিছুই নয়। আবার এটি পরীক্ষা কমিটিতে যারা রয়েছেন ওই ব্যাচের ওপর তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও হতে পারে।’

পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসগর হোসাইন বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটি যেভাবে খুশি প্রশ্ন করতে পারে। এ ব্যাপারে কোনো বিধি-নিষেধ আছে বলে আমার জানা নেই। তবে যেহেতু অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।’

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/এমবিআর/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com