চোখের জলে অধ্যাপক ইয়াছিন আলীকে চিরবিদায়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক ইয়াসিন আলীকে চোখের জলে চিরবিদায় জানালেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক ইয়াসিন আলীর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান বাংলা বিভাগের শিক্ষক - কর্মচারীসহ সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাকে শেষবারের মত এক নজর দেখতে এসে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বাংলা বিভাগের স্নাতকত্তোরের ছাত্র এনায়েত করিম তপু বলেন, স্যার অনেক ক্রিটিকাল মোমেন্টেও এমন কথা বলতেন যে সবাই হেসে দিতেন। এমন হাস্যরস সৃষ্টি করে ক্লাস নিতে জীবনে অন্য কোনো শিক্ষককে দেখিনি। স্যারের বিদায়ে বিভাগের একটি নক্ষত্র অকালে বিদায় নিল।

বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, আমি ক্লাস কম করতাম কিন্তু ইয়াসিন স্যারের ক্লাস কখনো মিস করতাম না।

iu-Vc03

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী তার জানাজায় উপস্থিত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ইয়াসিন আলী আমার বন্ধু প্রতীম, আমার সমসাময়িক। তার সঙ্গে বুদ্ধিভিত্তিক আড্ডা দিয়েছি অসংখ্য দিন। তার মত একজন বুদ্ধিজীবী শিক্ষককে হারিয়ে ইবির অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।

অধ্যাপক ইয়াছিন আলী গত ৭ অক্টোবর ব্রেইনস্ট্রোক ও হার্টস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। তবে সোমবার হঠাৎ অবস্থার অবনতি হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

অধ্যাপক ইয়াসিন আলী ১৯৬৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার রাণীনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রখর মেধাবী ও জ্ঞানতাপস এই শিক্ষক রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি গ্রহণ করে ১৯৯২ সালে যোগদান করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দর্শন বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে।

তিনি তার দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবনে বাংলা বিভাগসহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত দশটি বিভাগে ফোকলোর, দর্শন ও মুসলিম দর্শন বিষয়ে পাঠদান করেছেন। সর্বশেষ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/আরএআর/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com