পরীক্ষা না দিয়েও মেধাতালিকায় ১২তম, রহস্য উদঘাটন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ১২:০৫ এএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই মেধাতালিকায় ১২তম হওয়ার ঘটনার রহস্য বের করেছে এ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যে জালিয়াতি ছিল না, ভর্তিচ্ছু অপর এক পরীক্ষার্থী উত্তরপত্রে রোল নম্বর লেখার নির্ধারিত স্থানে সঠিক রোল লিখলেও বৃত্ত ভরাটের স্থানে ‘১’ এর স্থলে ‘০’ ভরাট করেন। তাই ভুল বৃত্ত ভরাট (রোল নম্বর) করায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

তদন্ত কমিটির একাধিক সূত্র সোমবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে ভিসি অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ও তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন বলে কুবির জনসংযোগ শাখা সূত্রে জানানো হয়েছে।

কুবি সূত্রে জানা যায়, স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলেও প্রকাশিত ফলে দেখা যায় ১২তম হয়েছেন। এ নিয়ে জাগো নিউজসহ বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গত ৩০ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ভর্তিকার্যক্রম স্থগিত করে তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়

তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে ১২তম স্থান পাওয়া ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলামের কেন্দ্র ছিল কোটবাড়ির টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার ৫ নম্বর কক্ষ। কিন্তু ওই কক্ষে পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির স্বাক্ষর তালিকায় তার স্বাক্ষর ছিল না। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় এই রোল নম্বরের উত্তরপত্র পাওয়া যায় এবং ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে এ উত্তরপত্র মূল্যায়িত হয় এবং ফলাফল তৈরি হয়। ফলাফল তৈরি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রবেশপত্র যাচাই-বাছাই কমিটি মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের কপি যাচাই-বাছাই করে। এ সময় সাজ্জাতুল ইসলামের প্রবেশপত্রও পাওয়া যায়নি।

তিনি মৌখিক সাক্ষাৎকারেও অংশগ্রহণ করতে আসেননি। পরে এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির স্বাক্ষর তালিকা এবং উত্তরপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়- ওই কেন্দ্রের একই ভবনের তৃতীয় তলার ১১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেয়া ২০৬১৫০ রোলধারী মো. আলী মোস্তাকিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও এবং উপস্থিতির তালিকায় তার স্বাক্ষর থাকলেও তার রোলের উত্তরপত্র নেই।

পরে দেখা যায়, ২০৬১৫০ রোলধারী ভর্তিচ্ছু মো. আলী মোস্তাকিন উত্তরপত্রে রোল নম্বর লেখার নির্ধারিত স্থানে সঠিক রোল লিখলেও বৃত্ত ভরাটের স্থানে ‘১’ এর স্থলে ‘০’ ভরাট করেন। ওই কক্ষের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শকের অসতর্কতায় বিষয়টি ধরা না পড়ায় উত্তরপত্রটি ভুলভাবেই মূল্যায়িত হয়। ফলে ২০৬১৫০ রোলধারী ভর্তিচ্ছু মো. আলী মোস্তাকিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তিনি রোল নম্বর ভুল লেখায় পরীক্ষা অংশ না নিয়েও ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম মেধাতালিকায় স্থান পায়।

এ বিষয়ে ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলামের মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই জানান, সাজ্জাতুল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।

এদিকে ইউনিটের ভর্তিসংক্রান্ত কার্যক্রম খুবই গোপনীয় হলেও ভর্তিকার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কোনো সদস্য এ তথ্যটি ভুলভাবে উপস্থাপন করায় এমন ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা।

‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, এটি কোনো জালিয়াতি নয়, বরং একজন পরীক্ষার্থীর ভুলে এমনটি হয়েছে, আমরা সতর্কভাবে পরীক্ষার উত্তরপত্রটি যাচাই না করার কারণে এমনটি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় তদন্তে ভুলের বিষয়টি বের হয়েছে, তবে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট যারা ছিলেন তাদের আরও সতর্ক থাকলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না। এ বিষয়ে যাদের গাফিলতি ছিল তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো. কামাল উদ্দিন/বিএ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com