চূড়ান্ত পরীক্ষার দিনে মিডটার্ম, শিক্ষার্থীরা বলছেন ‘অযৌক্তিক’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:৩১ এএম, ১৭ জুন ২০২১
ফাইল ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষার দিনেই একই কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বুধবার (১৬ জুন) এ সংক্রান্ত খবর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপগুলোতে শেয়ার হওয়ার পর বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৩ জুন একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো ১৩ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে নেয়া শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি অনেকগুলো বিভাগ তাদের মিডটার্ম পরীক্ষাও সশরীরে নেয়া শুরু করে।

এ অবস্থায় জনসমাগম কমানোর লক্ষ্যে সেমিস্টার চূড়ান্ত পরীক্ষার দিনই একই কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এ কমিটি। যা আগামী শনিবার (১৯ জুন) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন একইদিনে সেমিস্টার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে আবার দুটি মিডটার্ম (প্রতিটি কোর্সের দুটি করে মিডটার্ম নেয়া হয়) দেয়া তাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে যাবে।

সোহেল ইবনে আলম নামে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, ‘এটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। ৩ ঘণ্টার সেমিস্টার দিয়ে ওই দিন আবার মিডটার্ম কেমনে দিব। আমরা মানুষ নাকি রোবট?’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জয় দেবনাথ বলেন, ‘এটা অবশ্যই ফালতু সিদ্ধান্ত। তিন ঘণ্টা সেমিস্টার ফাইনাল দিয়ে দুইটা মিড দেয়ার এনার্জি থাকবে? আমাদের হাত কি মেশিন? সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করি।’

মাকেটিং বিভাগের ওসমান ফারুক বলেন, ‘খুব বাজে সিদ্ধান্ত। সেমিস্টারের পর দুইটা মিড দেয়া কষ্টকর।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করেই উপাচার্যের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষকরাও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই পরীক্ষা নিচ্ছে। তবে কোনো বিভাগ একোমোডেট করতে না পারলে তারা অনলাইন কিংবা অফলাইনে মিডটার্ম পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

এ নিয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা ভালোর জন্য করেছি, তবে শিক্ষার্থীরা যদি একই দিনে মিড ও ফাইনাল দিতে না চায় তাহলে তারা সরাসরি পরীক্ষা কমিটিকে জানাতে পারে।’

এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]