ক্যাম্পাস অচলের হুমকি দিলেন ইবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা
চাকরির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা। দাবি মানা না হলে ক্যাম্পাস অচলেরও হুমকি দেন তারা।
মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারীকে আটকে রেখে এ বিক্ষোভ করেন তারা। পরে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আলোচনায় বসার আশ্বাসে সরে যান আন্দোলনরতরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫৪তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনজন শিক্ষক ও একজন চালক নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে তারা নিজেদের চাকরির দাবি তোলেন।
দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী। এ সময় উপাচার্যের পিএসকে অবরুদ্ধ করেন তারা। চাকরির ব্যবস্থা না হলে বিভিন্ন অফিসের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর সহকারী প্রক্টরদের সহযোগিতায় অফিস থেকে বের হন উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী আইয়ুব আলী।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চাকরির দাবিতে মূলত তারা আমাকে অবরুদ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পক্ষ তাদের দিয়ে এসব কাজ করাচ্ছে।’

পরে বিকেল ৩টায় ওই স্থান ত্যাগ করে প্রধান ফটকে তালা দেন আন্দোলনকারীরা। ফলে সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী নিয়মিত গাড়িগুলো আটকে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের পর বিকেল সাড়ে ৪টার পর প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের আশ্বাসে প্রধান ফটক খুলে দেন চাকরি প্রত্যাশীরা।
আন্দোলন শেষে চাকরি পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিটু মিজান বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছি। আওয়ামী লীগের সময়ে আমাদের চাকরি না দিয়ে নতুনভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। আমরা এটি মেনে নিবো না। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আমরা আজ আন্দোলন থেকে সরে এসেছি। সোমবারের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না হলে ক্যাম্পাস অচল করে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘চাকরি তো চাইলেই দেওয়ার সুযোগ নেই। সবকিছুরই একটি নীতিমালা রয়েছে। আইনের বাইরে তো যাওয়ার সুযোগ নেই। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে তাদের দৈনিক মজুরিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এখন তার আর দরকার নেই। এভাবে আন্দোলন করা দুঃখজনক।’
এসজে/এমএস