দেশের সর্বোচ্চ মিনার জাবিতে


প্রকাশিত: ০১:২৯ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর নির্মিত স্থাপনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নামকে আরো পাকাপোক্ত করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের গুরত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে একটি হলো শহীদ মিনার; উচ্চতায় যা দেশের সবকটি শহীদ মিনারকে ছাড়িয়ে গেছে।

ju-minne১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। তাই ৩০ লাখ শহীদের এই আত্মত্যাগের আবেগও জড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে এবং শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় দেশের সর্বোচ্চ এবং মনোমুগ্ধকর স্থাপত্যশৈলীতে সমৃদ্ধ শহীদ মিনার।

এই শহীদ মিনারের স্থাপত্যকর্মে চিত্রিত হয়েছে এই ভূখণ্ডের বিধৃত ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি ও গৌরবগাথা। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রস্থল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের সামনে এই শহীদ মিনার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশ দিয়ে চলে গেছে ত্রিকোণাকার রাস্তা; যা এই সুউচ্চ শহীদ মিনারকে করেছে আরো সৌন্দর্যমণ্ডিত। পুরো শহীদ মিনার প্রাঙ্গণটি সবুজ ঘাসে ও বাহারী রঙের ফুলগাছে আচ্ছাদিত। রাস্তার পাশের উঁচু উঁচু বৃক্ষের ডালপালার আচ্ছাদনে বর্ণিল হয়ে ওঠে স্থানটি।

শহীদ মিনারটির স্থপতি শিল্পী রবিউল হোসাইন। ২০০৪ সালে ৬ নভেম্বর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও ২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান।

১৯৫২ সালের সকল অর্জনের ভিত্তি বিবেচনা করে শহীদ মিনারটির ভিত্তিমঞ্চের ব্যাস রাখা হয়েছে ৫২ ফুট এবং ১৯৭১ সালের অবিস্মরণীয় মর্যাদার প্রতি সম্মান জানিয়ে ভিত্তিমঞ্চ থেকে উন্মুক্ত আকাশগামী স্তম্ভত্রয়ের উচ্চতা রাখা হয়েছে ৭১ ফুট। ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৭১ কে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ভিত্তিমঞ্চে ব্যবহার করা হয়েছে আটটি সিঁড়ি; যা ধারাবহিকতার প্রতীক।

ঊর্ধ্বগামী স্তম্ভ তিনটির একটি বাংলাভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, দ্বিতীয়টি মাটি-মানুষ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং তৃতীয়টি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

sheed-minar
দৃঢ়তার প্রতীক ত্রিভুজাকৃতির ঋজু কাঠামোর মিনারের স্থাপত্য শৈলীতে বিধৃত হয়েছে সেইসব জাতীয় বীরদের বীরত্বগাথা যারা মায়ের ভাষা, ভূমির জন্য যূথবদ্ধ হয়ে লড়েছেন, জীবন দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি এ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, সবুজে আচ্ছাদিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতিপ্রেমীদের এক আরাধ্য স্থান। এই নৈসর্গের ভেতরই সংস্কৃতির দীপ্ত পথচলা। ক্যাম্পাসের ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে শহীদ মিনারের সম্পূর্ণ অংশটিতেই লাল ইটের ব্যবহার করা হয়েছে।  

এনএফ/আরআইপি

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :