শার্শায় চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১০ নেতা বহিষ্কার
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোরের শার্শা উপজেলায় আওয়ামী লীগের মধ্যকার দ্বন্দ্বের প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এমপি গ্রুপ ও মেয়র গ্রুপ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিতরা স্ব-স্ব বলয়ের অনুমতি নিয়ে নৌকার বিপক্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। ফলে এখানকার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে আটটিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছে।
এ অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগ আট প্রার্থীসহ মোট ১০ জনকে বহিষ্কার করেছে। সোমবার বিকেলে বহিষ্কারের একটি চিঠি গণমাধ্যমকর্মীদেরও দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্রোহীরা অনঢ় অবস্থানে রয়েছে।
শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ বেশ কয়েক বছর ধরেই দুইভাগে বিভক্ত। একটি অংশের নেতা জেলা আওয়ামী লীগেরসহ সভাপতি এমপি শেখ আফিল উদ্দিন ও আরেক অংশের নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগের উপশিল্প বাণিজ্য সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।
এই দুই গ্রুপ ৬ষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন দিতে প্রার্থীদের দুটি তালিকা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে জমা দেয়। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি তালিকা থেকে দুই পক্ষের পাঁচজন করে ১০ জন নেতাকে মনোনয়ন দেন। এরপর বঞ্চিতরা স্ব-স্ব বলয়ের অনুমতি নিয়ে বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অনেকে এই বিষয়টি প্রচার করেই ভোট চাইছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিনকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেছেন, দলের সভানেত্রী ১০ জনের মধ্যে আমার পছন্দের পাঁচ প্রার্থীকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় এমপি আমার অনুসারী পাঁচজনের বিপক্ষেই বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। এমপি নেত্রীর নির্দেশ মানেন না। নেত্রীর বিপক্ষে এমপি আফিল উদ্দিন অবস্থান নিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র লিটন বলেন, উলাশী ও কায়বা ইউনিয়নে যারা বিদ্রোহী রয়েছেন আমি তাদের সঙ্গে নেই। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১০ ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীর সঙ্গেই আমি রয়েছি।
এদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ডিহি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল খালেক, সহ সভাপতি হোসেন আলী, লক্ষণপুর ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতি শামসুর রহমান, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, পুটখালী ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাদিউজ্জামানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া কায়বা ইউনিয়ন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, উলাশী ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা শাখার সহ সভাপতি শহিদুল আলম বহিষ্কার হয়েছেন।
আর নিজামপুর থেকে প্রার্থী হওয়ায় যুবলীগ নেতা আবুল কালাম এবং তার পক্ষে নির্বাচন করায় বহিষ্কার হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওহাব ও সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম। তাদের দল ও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে সোমবার গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মিলন রহমান/এমএএস/পিআর