হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন


প্রকাশিত: ১০:০৬ এএম, ২৪ মে ২০১৬

চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিশেষ জজ সৈয়দা হোসনে আরা এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দু’ভাই হলেন রেজাউল করিম লিটন এবং মফিজুল ইসলাম ফারুক। এদের মধ্যে লিটন পলাতক আছেন।

মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আজাদুল আলম আজাদ এবং ওই দোকানের কর্মচারী আবুল কালামকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।

জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন।  

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়ার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমানের ছেলে হাফেজ দিদারুল আলম ওই উপেজলার কেরানিহাটে ভাই ভাই ক্লথ স্টোরের কর্মচারী ছিলেন। ভাই-ভাই ক্লথ স্টোরের মালিক ছিলেন রেজাউল করিম লিটন, আজাদুল আলম আজাদ এবং মফিজুল ইসলাম ফারুক।

২০০৫ সালের ১ নভেম্বর রমজান মাসে আকস্মিকভাবে দোকানের ভেতর হাফেজ দিদারের মৃত্যু হয়। দোকান মালিকরা তার পিতাকে জানায়, সেহেরি খাওয়ার পর বমি করতে করতে দিদার মারা গেছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান তাদের কথা বিশ্বাস না করে পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, হাফেজ দিদারের মাথায়, বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

পিপি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দোকান মালিকদের বড় ভাই জাফরের মেয়ের সঙ্গে হাফেজ দিদারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই প্রেমের ঘটনা ধামাচাপা দিতে দিদারকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে তারা। এরপর দিদারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’  

এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ২০০৯ সালের ২ জুন পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ গঠন ও ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর মঙ্গলবার আদালত এ রায় দেন।

জীবন মুছা/এসএইচএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।