একটা সময় আইনের শাসন চেয়ে পেয়েছি মিলিটারি শাসন : আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশ স্বাধীনই করেননি তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, মানুষের কল্যাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান করে দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একটি ব্রত নিয়ে সরকার গঠন করেছেন আর সেটি হলো বাংলাদেশের উন্নয়নের আগে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিদের মর্যাদা দেয়ার জন্যই ষোড়শ সংশোধনী করা হয়েছিল। কোনো মার্শাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের কলমের খোঁচায় যাতে কোনো বিজ্ঞ বিচারপতির চাকরি না যায় সেজন্যই এই সংশোধনী। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের আর্টিকেল ৯৬-২০ এর একটি শব্দ, দাঁড়ি-কমাও তাতে বাদ দেয়া হয়নি। হুবহু তা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। তবে এটা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে তাতে ভয় পাবার কিছু নেই।
তিনি বলেন, একটা সময় আমরা দেশে আইনের শাসন চেয়েছি, কিন্তু তার বদলে পেয়েছি মিলিটারি শাসন। উন্নয়নের বদলে পেয়েছি সন্ত্রাস। দেশে খুন করে হিরো হয়ে কূটনৈতিক মিশনে চাকরি পাওয়ার রীতি বন্ধ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আজ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে পারাটা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। তারা মানুষকে (যুদ্ধাপরাধী) মেরেছিল নির্বিচারে কিন্তু আমরা তাদেরকে সাক্ষি-প্রমাণের ভিত্তিতে করা বিচারের রায় কার্যকর করেছি। আমরা তাদেরকে মারিনি, তাদের প্রাপ্য সাজার রায়টা কার্যকর করেছি। এজন্যই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সারোয়ার-ই-আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জেলা ও দায়রা জজ মো. ঈসমাইল হোসেন, জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার প্রমুখ।
আজিজুল আলম সঞ্চয়/ এমএএস/পিআর