বাণিজ্যিক মিটারেই চলছে অজস্র কারখানা


প্রকাশিত: ০৬:১২ এএম, ০১ জুন ২০১৬

ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন স্থানে, আবাসিক এলাকায় ও রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে নানা ওয়ার্কশপ। নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা করছে না এসব ওয়ার্কশপ মালিকরা। এমনকি এসব ওয়ার্কশপে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদন না নিয়েই চালানো হচ্ছে বিভিন্ন ভারি যন্ত্রপাতি।

বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযোগ, এসব কারখানার মালিকরা ব্যবসায়ীক মিটার দিয়েই ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। আবার অনেক কারখানায় বিদ্যুতের অনুমতিও নেই। এছাড়া কাঠের ঘরে নির্মিত এসব কারখানাগুলো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে দিন-রাত সমানতালে লোহা কাটা ও হাতুরির শব্দে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পার্শ্ববর্তি বাসার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। অবিরাম শব্দে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন বাড়ির বয়স্করা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝালকাঠি নতুন কলেজ রোডস্থ পৌর পুরাতন গোরস্থান সংলগ্ন কাঠের ঘরে, আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চলছে নিউ ঝালকাঠি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। পৌরসভার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও পৌরসভার কোনো অনুমতি, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র কিছুই নেই। অবৈধভাবে গড়ে উঠা এ ওয়ার্কশপে দিন-রাত সমানতালে হাতুড়ি পেটানোর শব্দে শব্দ দূষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্শ্ববর্তি বাসিন্দারা।

প্রতিবেশী নুর হোসেন বলেন, ওয়ার্কশপের শব্দে অস্থির। স্কুলগামী বাচ্চারা ওয়ার্কশপের টাকাটাকির শব্দে বাসায় বসে পড়তে পারছে না। ওয়ার্কশপের শব্দে সকালে ঘুম ভাঙে, ঘুম থেকে উঠার পরে পড়তে বসতে পারে না। লেখাপড়ার স্বার্থে বাসা পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না।
 
পথচারী আজিজুর রহমান বলেন, কলেজ রোডটি ঝালকাঠি শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম একটি সড়ক। রাস্তার পাশে ওয়ার্কশপ দিয়ে ৮০ ভাগ কাজই সম্পন্ন করা হয় রাস্তায়। এছাড়া উম্মুক্ত স্থানে ঝালাইয়ের কাজ করায় পথচারীদের চোখেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
 
ওয়ার্কশপ মালিক শাখাওয়াত হোসেন খোকন বলেন, ওয়ার্কশপের জন্য মাল আনা হলে সেটি রাস্তার পাশে রেখে সাইজ করে ভিতরে রাখা হয়। ঝালাইয়ের কাজ কখনোই রাস্তায় করা হয় না। ঝালকাঠির অনেকগুলো ওয়ার্কশপইতো কাঠের ঘরে। বিদ্যুত বিভাগের অনুমোদন এখনো নেয়া হয়নি, তবে নেয়ার চেষ্টা চলছে।
 
ঝালকাঠির ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ওজোপাডিকো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাছেতুজ্জামান বলেন, ঝালকাঠির সকল ওয়ার্কশপের দোকানে বৈদ্যুতিক লাইনের পারমিশন নেই। দোকান উত্তোলনের সময় বলা হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পরে সেই ব্যবসায়ীক মিটার দিয়ে ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন মালিকরা। তারপরে আবার কাঠের অবকাঠামোতে ওয়ার্কশপ এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষই করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

আতিকুর রহমান/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।