৩ রাজাকারের অত্যাচার আজও ভোলেনি হবিগঞ্জবাসী


প্রকাশিত: ০৯:১৯ এএম, ০১ জুন ২০১৬

যুদ্ধাপরাধের দায়ে হবিগঞ্জের দুই সহোদর ও তাদের এক চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে আজ। এদের মধ্যে মহিবুর রহমান বড় মিয়ার ফাঁসি ও বাকি দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে এ ৩ রাজাকার ভাইয়ের অত্যাচারের কথা আজো ভোলেনি এলাকাবাসী। সেই লোমহর্ষক ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায় তাদের। একাত্তরের এসব ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি যখন দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণপণে লড়ছিল, তখন এদেশিয় কিছু অসাধু ব্যক্তি গ্রামের নিরীহ মানুষদের উপর চালায় অত্যাচার। খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ কোনো কিছুই বাদ দেয়নি তারা।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে তেমনি অত্যাচার চালায় মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া এবং তাদের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক। তাদের অত্যাচারের লোমহর্ষক ঘটনাগুলো আজো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে গ্রামের লোকদের।

২০০৯ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার স্ত্রী ভিংরাজ বিবি হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ তিনজনসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন। পরে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে যায়। প্রসিকিউশনের আবেদনে ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুই সহোদরকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৮ মে গ্রেফতার করা হয় চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাককে।

তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চারটি ঘটনায় হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন ও আসামিপক্ষে সাত জনের সাক্ষ্য ও উভয়পক্ষের জেরা ও বক্তব্য শেষে গত ১১ মে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখেন। মামলার প্রধান সাক্ষী মস্তর আলী সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে ২০১০ সালেই মৃত্যুবরণ করেন মামলার বাদী ভিংরাজ বিবি।

খাগাউড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাদিকুর রহমান জানান, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। আপিলের মাধ্যমে বাকি দুই জনেরও ফাঁসির আদেশ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অপরদিকে মামলার প্রধান সাক্ষী মস্তুর আলী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তিনি খুবই আনন্দিত। তবে এ মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামিরও আপিলে ফাঁসির আদেশ হবে।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী পুলিশ বিবি বলেন, আমরা শুনেছি একজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। বাকি দুই জনেরও ফাঁসি হলে আমরা খুশি হবো।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।