শর্ত সাপেক্ষে দেশে ফিরতে পারবে সোনু


প্রকাশিত: ০১:১৮ পিএম, ২৮ জুন ২০১৬

বাংলাদেশি পাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে বাংলাদেশের বরগুনায় আসা ভারতীয় কিশোর অভিরূপ সোনুকে মামলার প্রয়োজনে আদালতে হাজির করার শর্তে ভারতীয় হাইকমিশনের জিম্মায় দিয়েছেন বরগুনার আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু তাহের এ আদেশ দেন।

এর আগে সোমবার সোনুকে ভারতীয় হাইকমিশনের জিম্মায় নিতে আদালতে আবেদন করেন ভারতীয় হাইকমিশনের মুখ্য সচিব রমা কান্তগুপ্তা। পরে আবেদনের শুনানি শেষে এক লাখ রুপির সিকিউরিটি বন্ড দিয়ে সোনুকে তাদের জিম্মায় নিতে বলেন আদালত।

কিন্তু ভারত বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পাচারকারীর কবলে পড়া একটি শিশুকে তার মা-বার কাছে ফিরিয়ে নিতে কোনোরূপ বন্ড দিতে অস্বীকার করেন ভারতীয় হাইকমিশনের মুখ্য সচিব রমা কান্তগুপ্ত।

Barguna-Pic

পরে আজ (মঙ্গলবার) ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে কোনো প্রকার বন্ড ছাড়াই মামলার প্রয়োজনে আদালতে হাজির করার শর্তে ইন্ডিয়ার হাইকমিশনের জিম্মায় সোনুকে দেন আদালত।

পরে বিকেল ৫টার দিকে আদালত থেকে সোনুকে নিজেদের জিম্মায় নেন ভারতীয় হাইকমিশনের মুখ্য সচিব রমা কান্তগুপ্তা। এরপর তিনি সোনুকে নিয়ে ঢাকায় রওনা দেন।

এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পাচারকারীর কবলে পড়া একটি শিশুকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ যে উদারতা দেখিয়েছে, এতে দুই দেশের বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর হবে। ভারতবাসী বাংলাদেশের এ উদারতা মনে রাখবে বলেও জানান তিনি। আর যত দ্রুত সম্ভব সোনুকে তার মা-বাবার কাছে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

Barguna

পাচারকারীদের অত্যাচার-নির্যাতনের পর দীর্ঘদিন পর মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে মুখিয়ে আছে সোনুও। সোনুকে উদ্ধারকারী জামান ইবনে মুসা বলেন, সোনুকে উদ্ধার করতে গিয়ে আমি হামলা মামলার শিকার হয়েছি। নিজের অর্থ খরচ করে ভারতে গিয়ে ওর মা-বাবাকে খুঁজে বের করেছি। এখন আমার সকল কষ্ট এবং ত্যাগ স্বার্থক হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৩ মে ভারতের নয়াদিল্লি থেকে সোনুকে অপহরণ করে বরগুনার বেতাগী উপজেলার গেরামর্দন গ্রামে নিয়ে আসে একটি পাচারকারী চক্র।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।