কুড়িগ্রামে নিজের গুলিতে বিজিবি সদস্যের মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০২:১৫ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০২৬

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে নিজের ব্যবহৃত সরকারি রাইফেলের গুলিতে মো. নাসিম উদ্দীন (২৪) নামের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন গংগারহাট বিওপি ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিজিবি সদস্যের নাম মো. নাসিম উদ্দীন। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের বাবুল মণ্ডলের ছেলে।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সীমান্তে নিয়মিত টহলে যাওয়ার জন্য ইউনিফর্ম পরিধান করে নিজের অস্ত্র বুঝে নেন সিপাহী নাসিম। এরপর তিনি ব্যারাকের পূর্বপাশে ক্যাম্পের সীমানার ভেতরে গিয়ে নিজের বুকে নিজেই গুলি চালান। গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, ছোটবেলায় নাসিমের মা মারা যান এরপর তিনি চাচার কাছে বড় হন। তার বাবা চারটি বিয়ে করেছেন এবং দুই মাস আগে আরও একটি বিয়ে করেন। পারিবারিক এসব বিষয় নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিষণ্নতা ভুগছিলেন। পাঁচ দিন আগে তিনি জরুরি ছুটিতে গিয়েছিলেন এবং দুই দিন আগে কাজে যোগ দেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটি আত্মহত্যা। তিনি নিজের অস্ত্র দিয়ে নিজের বুকেই গুলি করেছেন। তবে আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের নিজস্ব তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পুলিশও তাদের নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করছে।

মহসীন ইসলাম শাওন/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।