বগুড়া
দলীয় অনুদান ও স্বজনদের টাকায় ভোট করবেন জামায়াতের প্রার্থীরা
দলীয় অনুদান ও আত্মীয়-স্বজনের অর্থ ছাড়া বগুড়ার কোনো আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নির্বাচন পরিচালনা করতে পারছেন না। সাতটি সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রত্যেক প্রার্থীই ভোটের ব্যয়ের বড় অংশ সংগ্রহ করবেন দলীয় তহবিল ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে।
নিজস্ব আয় ও ব্যাংকে থাকা অর্থ দিয়ে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রেই স্পষ্ট নয়। অবাক করা বিষয় হলো এই তালিকায় দুজন কোটিপতি প্রার্থী থাকলেও তারা দলের ওপর নির্ভশরশীল বলে উল্লেখ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে নেবেন ১২ লাখ টাকা এবং দল থেকে পাবেন ১৩ লাখ টাকা। তার নিজের ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মাত্র তিন হাজার ৩৪০ টাকা। নগদ অর্থ থাকলেও তা ভোটের মোট ব্যয়ের তুলনায় সীমিত।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামানের কয়েক কোটি টাকার বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ থাকলেও ভোটের জন্য তিনি দলীয় তহবিল থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ব্যক্তিগত আয়ের তুলনায় নির্বাচনি ব্যয়ে দলীয় অর্থ কেন প্রয়োজন সেই বিষয়টি অস্পষ্ট।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ভোটের খরচ মেটাতে তিনি আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে নেবেন ছয় লাখ টাকা এবং দল থেকে পাবেন আরও ছয় লাখ। তার ঘোষিত বার্ষিক আয় ও ব্যাংক স্থিতি দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার সক্ষমতা সীমিত বলে ঘোষণা করেছেন।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের প্রার্থী মো. মোস্তফা ফয়সাল হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে তিনি নেবেন ১৮ লাখ টাকা এবং দলীয় অনুদান পাবেন পাঁচ লাখ টাকা। নিজস্ব আয় মূলত বিদেশ থেকে প্রাপ্ত সম্মানীভিত্তিক। এ কারণে তিনি অন্যের ওপর নির্ভরশীল।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের প্রার্থী দবিবুর রহমান ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি। তারপরও তিনি ভোটের জন্য আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা এবং দল থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলেও নির্বাচনে দলীয় অর্থের ওপর নির্ভর করছেন তিনি।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের প্রার্থী আবিদুর রহমান ভোট পরিচালনার জন্য আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা এবং দল থেকে আরও ১৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করবেন। তার ঘোষিত আয় ও নগদ অর্থ নির্বাচনি ব্যয়ের তুলনায় কম।
সবচেয়ে বেশি অবাক করা চিত্র দেখা গেছে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে। প্রার্থী গোলাম রব্বানী আত্মীয়-স্বজনদের কাছ
থেকে নেবেন ২৪ লাখ টাকা এবং দল থেকে পাবেন ২৫ লাখ টাকা। তার ব্যক্তিগত আয় সীমিত এবং তিনি কোনো আয়কর দেন না।
সাতটি আসনের সব প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচনি ব্যয়ের মূল উৎস হিসেবে দলীয় অনুদান ও আত্মীয়-স্বজনের অর্থই প্রধান। ব্যক্তিগত আয়, ব্যাংক জমা বা ঘোষিত নগদ অর্থ দিয়ে এককভাবে নির্বাচন পরিচালনার সক্ষমতা কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান নয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, ‘যখন স্পষ্টভাবে দলীয় অনুদান ও আত্মীয়-স্বজনের অর্থকে নির্বাচনি ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়, তখন বোঝা যায় প্রার্থী নিজে অর্থনৈতিকভাবে নির্বাচন চালাতে পারছেন না। এতে প্রার্থী নয়, দলই হয়ে ওঠে মূল নিয়ামক।’
বগুড়া শহর জামায়াতের আমির ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের প্রার্থী আবিদুর রহমান বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়। যেসব প্রার্থী অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল, তাদের ক্ষেত্রে বরাদ্দ তুলনামূলক কম হয়। আবার যেসব এলাকায় নির্বাচনি ব্যয় বেশি কিন্তু দলীয় চাঁদা আদায় কম, সেখানে দল থেকে বেশি সহায়তা দেওয়া হয়।’
আবিদুর রহমানের দাবি, এলাকার বাস্তবতা ও নির্বাচনি কাজের পরিমাণ বিবেচনায় রেখে এই বরাদ্দের অংক নির্ধারণ করা হয়।
এসআর/জেআইএম